দ্য গার্ডিয়ানের সম্পাদকীয়/ ইরানে ট্রাম্পের ধ্বংসের হুমকি ক্ষমতার নয়, বরং নৈতিক ও কৌশলগত দুর্বলতার লক্ষণ

A
Admin
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৩৭:৩০
জেনেভা কনভেনশনের প্রথম অতিরিক্ত প্রটোকলের ৫২ নম্বর অনুচ্ছেদে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই প্রটোকলের ভিত্তিতে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার জন্য রাশিয়ার সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।

ইউক্রেনের শহর ও জনপদে মনোবল ভাঙা ও আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য একের পর এক হামলা ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ যুদ্ধাপরাধের মধ্যে পড়ে। অনুরূপভাবে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ পাঠানোর হুমকি কার্যকর করেন, তবে তার ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক আইন প্রযোজ্য হবে।

এ সময় ট্রাম্প এবং তার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ রক্তপিপাসু উন্মাদনার সঙ্গে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা প্রকাশ করছেন। পেন্টাগন থেকে মৃত্যু ও ধ্বংসের আদেশ দেওয়ার সক্ষমতাকে হেগসেথ উদ্‌যাপন করেছেন। এই ইভানজেলিক্যাল খ্রিষ্টান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’কে একুশ শতকের ক্রুসেড হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, যার লক্ষ্য ‘অধার্মিকদের ধ্বংস করা’।

গত সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প আরও একটি অশ্লীল বার্তা দিয়েছেন। তিনি ক্রোধ প্রকাশ করে বলেছেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের পথ না খোলে, তবে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংসের হুমকি দেওয়া হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা ঘোষণার ২৫০তম বার্ষিকীর প্রাক্কালে এ ধরনের ভাষা ট্রাম্পের প্রশাসনকে কলঙ্কিত করেছে এবং দেশের বৈশ্বিক সুনাম ও নৈতিক গ্রহণযোগ্যতাকে ক্ষুণ্ন করছে। সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ থাকলে এই পরিস্থিতিতে সিনেটর ক্রিস মারফির পরামর্শ অনুসরণ করে পদক্ষেপ নেওয়া যেত। কিন্তু ট্রাম্পের চারপাশের আনুগত্যের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অবৈধ যুদ্ধের বিধ্বংসী বিস্তার রোধে বিশ্বজুড়ে অন্য কোনো বিকল্প নেই। ইরানও হুমকি দিয়েছে, তারা প্রতিবেশী অঞ্চলে এবং দেশের ভেতরে হামলার পরিধি বাড়াবে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ করার মাধ্যমে এ স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে।

ন্যাটো মিত্ররা ট্রাম্পের হঠকারি পদক্ষেপে যুক্ত না হয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা কোনো সুসংগত কৌশল বা আইনি ভিত্তি খুঁজে পাননি। বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ার কারণে আশা করা হচ্ছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিপর্যয় থেকে যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার কোনো পথ খুঁজে বের করা হবে।

তবে পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক। ট্রাম্প এবং হেগসেথ দক্ষিণ ইরানে নিখোঁজ মার্কিন যুদ্ধবিমানের ক্রু উদ্ধারের নাটকীয়তার বিষয় নিয়ে আত্মতুষ্টি প্রকাশ করেছেন। আগামী ঘণ্টাগুলোতে হাজার হাজার মানুষের জীবন এবং বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ এককভাবে নির্ভর করছে একজন প্রেসিডেন্টের খামখেয়ালির ওপর, যিনি মূলত নিজের স্বার্থ ও স্তাবক উপদেষ্টাদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছেন।

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. তারেক রহমানের সঙ্গে এরদোয়ানের বৈঠক, সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় সদ্য. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ট্রাম্প সদ্য. বিশ্ববাজারে ফের কমলো তেলের দাম সদ্য. মেট্রোরেলে যান্ত্রিক ত্রুটি, স্টেশনগুলোতে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় সদ্য. ‘জামায়াত-শিবিরের লাগাম না টানলে হাসিনার থেকেও ভয়ংকর হবে’ সদ্য. ঢাকায় অফিস খোলার আগ্রহ প্রকাশ করেছে মেটা: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সদ্য. পরাশক্তিগুলোর অনুধাবন করা উচিত, ক্ষমতা অসীম নয়: গুতেরেস সদ্য. জাতিসংঘে ভাষণে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির দাবি জানালেন এরদোয়ান সদ্য. জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী সদ্য. ১০০০ টাকার নোট বাতিল চেয়ে আইনি নোটিশ সদ্য. তারেক রহমানের সঙ্গে এরদোয়ানের বৈঠক, সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় সদ্য. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ট্রাম্প সদ্য. বিশ্ববাজারে ফের কমলো তেলের দাম সদ্য. মেট্রোরেলে যান্ত্রিক ত্রুটি, স্টেশনগুলোতে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় সদ্য. ‘জামায়াত-শিবিরের লাগাম না টানলে হাসিনার থেকেও ভয়ংকর হবে’ সদ্য. ঢাকায় অফিস খোলার আগ্রহ প্রকাশ করেছে মেটা: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সদ্য. পরাশক্তিগুলোর অনুধাবন করা উচিত, ক্ষমতা অসীম নয়: গুতেরেস সদ্য. জাতিসংঘে ভাষণে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির দাবি জানালেন এরদোয়ান সদ্য. জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিলেন প্রধানমন্ত্রী সদ্য. ১০০০ টাকার নোট বাতিল চেয়ে আইনি নোটিশ