রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে হামলা, ভাঙচুর ও স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান সামগ্রী লুটের অভিযোগে যুবলীগ নেতা শহিদুল হাকিম চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ফকিরাপুল এলাকার একটি ভবনে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ভাটারা থানা-পুলিশ।
ভুক্তভোগী বাড়ির মালিকের স্ত্রী জেবুন্নেসার করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও মামলার সূত্রে জানা গেছে, শহিদুল হাকিম চৌধুরীর গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায়। তিনি চট্টগ্রাম নগরের ষোলশহরে বসবাস করতেন এবং যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে তিনি ঢাকায় থাকছিলেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ২১ অক্টোবর রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এল ব্লকের ৮৪ নম্বর সড়কের ১৫৮১ নম্বর হোল্ডিংয়ের একটি ফ্ল্যাটে শহিদুল হাকিম, শিপন চৌধুরীসহ একদল ব্যক্তি হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করেন।
ফ্ল্যাটটির মালিক আবু বকর পেশায় একজন অটোমোবাইল প্রকৌশলী। দীর্ঘদিন অস্ট্রেলিয়ায় প্রবাসজীবন কাটানোর পর প্রায় এক বছর আগে দেশে ফিরে স্ত্রী জেবুন্নেসাকে নিয়ে ওই ফ্ল্যাটে বসবাস শুরু করেন তিনি।
আবু বকরের স্ত্রীর বড় ভাই মিন্টুর অভিযোগ, তিন দফায় হামলা চালিয়ে ফ্ল্যাটটি ব্যাপকভাবে ভাঙচুর করা হয়। ঘটনার পর তাঁর বোন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেও তাৎক্ষণিক প্রতিকার পাননি। তাঁর ভাষ্য, হামলাকারীরা দরজা-জানালা থেকে শুরু করে আসবাবপত্র পর্যন্ত খুলে নিয়ে যান। এমনকি ট্রাকে করে বাড়ির মালামাল সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে।
ভবনটির আরেকটি ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া জেনিফার সিদ্দিকী জানান, ২০ অক্টোবর প্রথম দফায় নিচতলার একটি ফ্ল্যাটে হামলা চালানো হয়। আতঙ্কিত জেবুন্নেসা দুই মাস বয়সী সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার পর ২৪ অক্টোবর রাতে আবারও হামলা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জেনিফারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই রাতে হামলাকারীরা ফ্ল্যাটের দরজা খুলে নিয়ে যান। বাথরুমের বেসিন ও কমোডসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুর করা হয়। গভীর রাতে একটি ট্রাকে করে ফ্ল্যাটের অবশিষ্ট আসবাবপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হলে তাঁরা মালিকপক্ষকে খবর দেন। পরে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার নিরাপত্তাকর্মীরা ট্রাকে মালামাল তোলার কাজে বাধা দেন। খবর পেয়ে রাত দেড়টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আবু বকর তাঁর ভগ্নিপতি শহিদকে সঙ্গে নিয়ে যৌথ মালিকানায় বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় তিন কাঠা জমি কেনেন। পরে সেখানে সাততলা ভবন নির্মাণ করেন তাঁরা। ভবনটির একটি ফ্ল্যাটে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে বসবাস শুরু করেন আবু বকর।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হামলাকারীরা জেবুন্নেসা ও তাঁর দুই মাস বয়সী শিশুকে আক্রমণ করে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এ সময় ৪০ ভরি স্বর্ণালংকার ও কয়েক লাখ টাকা লুট করে নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় গত ২৭ অক্টোবর ভাটারা থানায় সাতজনকে আসামি করে মামলা করেন জেবুন্নেসা। পরে বৃহস্পতিবার উপপরিদর্শক (এসআই) সরওয়ার ওয়াদুদের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি শহিদুল হাকিম চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ভাটারা থানার এসআই সরওয়ার ওয়াদুদ বলেন, “প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে তৎপর রয়েছে পুলিশ।”
সদ্য সংবাদ/ এআর