গাজীপুরের কালিয়াকৈরে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে শিল্পাঞ্চল। ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে টানা চতুর্থ দিনের মতো সড়কে নেমেছেন বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। তাঁদের বিক্ষোভ ও অবরোধে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের দীর্ঘ এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার পল্লীবিদ্যুৎ ও মৌচাক এলাকায় শ্রমিকদের জমায়েত থেকে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচলে বাধা দেন। এ সময় বিভিন্ন যানবাহন ও আশপাশের দোকানপাটে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে অর্ধশতাধিক যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে শ্রমিকদের সঙ্গে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরাও শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ নিয়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
আন্দোলনের প্রভাবে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন দূরপাল্লার যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা। একই সঙ্গে মৌচাক, পল্লীবিদ্যুৎ, সফিপুর ও হরিণহাটি এলাকার একাধিক শিল্পকারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, সকালে শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করলে পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে। এ সময় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে এবং বেশ কিছু যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করছেন।
শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট এই অস্থিরতায় গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে উৎপাদন কার্যক্রম ও স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস