প্রিয় মানুষটির সঙ্গে সম্পর্কের যত্ন, কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশের উপলক্ষ হিসেবে আজ পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব বয়ফ্রেন্ড দিবস’। ৩ অক্টোবরকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে নানা আয়োজন। প্রিয় মানুষের সঙ্গে তোলা ছবি, পুরোনো স্মৃতি ও ভালোবাসার বার্তা দিয়ে দিনটি উদযাপন করছেন অনেকেই।
এই দিবসটি কোনো সরকারি বা আনুষ্ঠানিক আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে স্বীকৃত নয়। বিভিন্ন অনলাইন সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক একটি ট্রেন্ড হিসেবে ‘বয়ফ্রেন্ড ডে’ জনপ্রিয় হতে শুরু করে। পরে বিভিন্ন দেশের তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এটি ছড়িয়ে পড়ে।
বিশ্ব বয়ফ্রেন্ড দিবসের আলাদা কোনো নির্দিষ্ট রীতি নেই। যার যার মতো করে প্রিয় মানুষকে সময় দেওয়া, শুভেচ্ছা জানানো কিংবা ছোট কোনো উপহার দেওয়ার মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করা হয়। কেউ পছন্দের বই, ঘড়ি, সুগন্ধি বা ব্যক্তিগত কোনো উপহার দিচ্ছেন, আবার কেউ হাতে লেখা চিঠি কিংবা ছোট্ট একটি বার্তাকেই বেছে নিচ্ছেন ভালোবাসা প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও হয়ে উঠেছে এই দিবস উদযাপনের অন্যতম জায়গা। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে যুগল ছবি, স্মৃতিচারণমূলক পোস্ট এবং আবেগঘন ক্যাপশন দেখা যাচ্ছে। অনেকে আবার সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ্যে না এনে প্রিয় মানুষের হাতের ছবি, পাশাপাশি হাঁটার মুহূর্ত কিংবা কোনো বিশেষ স্মৃতির ছবি দিয়ে দিবসটির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন।
ভিডিও প্ল্যাটফর্মগুলোতেও এ উপলক্ষে বিভিন্ন ধরনের রিলস ও শর্ট ভিডিও তৈরি হচ্ছে। সম্পর্কের শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি একসঙ্গে সাজিয়ে ভিডিও বানানোর প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে যারা সম্পর্কে নেই, তারাও মিম, রসিকতা ও ব্যঙ্গাত্মক পোস্টের মাধ্যমে দিবসটি নিয়ে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন।
তবে দিনটি শুধু উপহার কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে সীমাবদ্ধ নয়। ব্যস্ততার কারণে একে অপরকে পর্যাপ্ত সময় দিতে না পারা দম্পতি বা প্রেমিক-প্রেমিকাদের অনেকেই আজ একসঙ্গে সময় কাটানোর পরিকল্পনা করছেন। কারও আয়োজন হতে পারে প্রিয় রেস্তোরাঁয় নৈশভোজ, কারও আবার দীর্ঘ সময় গল্প করা বা একসঙ্গে সিনেমা দেখার মতো সহজ কোনো পরিকল্পনা।
সম্পর্ক নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি সুস্থ সম্পর্কে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, মনোযোগ ও অনুভূতির মূল্য অনেক বেশি। অনেক পুরুষ নিজের অনুভূতি বা সমস্যার কথা সহজে প্রকাশ করেন না। তাই সঙ্গীর কাছ থেকে পাওয়া স্বীকৃতি ও কৃতজ্ঞতার প্রকাশ তাদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভালোবাসা প্রকাশের জন্য বড় আয়োজন বা ব্যয়বহুল উপহারের প্রয়োজন নেই। সঙ্গীকে গুরুত্ব দেওয়া, তার কথা মন দিয়ে শোনা এবং কঠিন সময়ে পাশে থাকার মতো বিষয়গুলোই সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে পারে।
তাই বিশ্ব বয়ফ্রেন্ড দিবসের উপলক্ষটিকে অনেকে দেখছেন সম্পর্কের মানুষটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি সুযোগ হিসেবে। একটি ছোট্ট শুভেচ্ছা কিংবা ‘তুমি আমার জীবনে গুরুত্বপূর্ণ’ এমন একটি কথাও হতে পারে দিনটি বিশেষ করে তোলার সহজ উপায়।
সদ্য সংবাদ/এসএস