দেশের অন্যতম বৃহৎ ও দ্রুততম কুরিয়ার সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস (প্রা.) লিমিটেডের ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে রাজধানীর মতিঝিলে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয়সহ সারা দেশের সব শাখায় নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
রোববার (১ নভেম্বর) দিনের শুরুতে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম মো. ইমামুল কবীর শান্তর বনানীস্থ কবরে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিকেলে মতিঝিলে প্রধান কার্যালয়ে কেক কাটা ও দোয়া মাহফিলের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন শেষ হয়। অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ১৯৮৩ সালে বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম মো. ইমামুল কবীর শান্ত জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত, নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য ডাক ও পার্সেল সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস (প্রা.) লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করেন।
তিনি শুধু দেশের কুরিয়ার শিল্পের ভিত্তি স্থাপনই করেননি, বরং সরকারি পর্যায়ে এ খাতের নীতিমালা প্রণয়ন ও লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁর উদ্যোগে গঠিত হয় কুরিয়ার সার্ভিসেস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (CSAB), যা এখনো এ খাতের মানোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।
কুরিয়ার শিল্পে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকারের ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় তাঁকে ‘লিজেন্ড অব কুরিয়ার’ উপাধিতে ভূষিত করে সম্মাননা স্মারক প্রদান করে।
বর্তমানে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস সারা দেশে দুই শতাধিক নিজস্ব শাখা ও ছয় শতাধিক এজেন্সির মাধ্যমে বছরে ৩৬৫ দিন নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিয়ে আসছে। এমনকি ভয়াবহ করোনা মহামারির সময়ও প্রতিষ্ঠানটি জরুরি ওষুধ, চিকিৎসাসামগ্রী এবং প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহে নিরলসভাবে কাজ করেছে।
প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে জেনারেল সার্ভিস, এক্সপ্রেস সার্ভিস, সুপার এক্সপ্রেস সার্ভিস, নন-ডকুমেন্ট সার্ভিস, পার্সেল সার্ভিস, টু-পে সার্ভিস, কন্ডিশন বুকিং সার্ভিস, ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিস, সেইম ডে ডেলিভারি সার্ভিস ও ই-কমার্স সার্ভিসসহ বিভিন্ন ধরনের সেবা পরিচালনা করছে।
দেশের বাণিজ্য, ই-কমার্স, কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পাশাপাশি সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস দীর্ঘদিন ধরে জনগণের আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে সেবা দিয়ে যাচ্ছে।
সদ্য সংবাদ/ এরআর