রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় এক প্রবাসীর পরিবারের জন্য পাঠানো ২০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার ছিনতাইয়ের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং বিমানবন্দর সাংগঠনিক ইউনিট বিএনপির সভাপতিও রয়েছেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন-বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি রিপন, সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন শান্ত এবং বিমানবন্দর সাংগঠনিক ইউনিট বিএনপির সভাপতি আব্দুর রউফ। এ ঘটনায় আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। তাদের আটকের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ জানায়, শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে এবং রোববার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় করা মামলার ভিত্তিতেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
উত্তরা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মির্জা তারেক বেগ রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এক প্রবাসীর ভাইয়ের করা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আরও যারা জড়িত থাকতে পারেন, তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৯ আগস্ট মো. সুমন নামে এক ব্যক্তি বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন। মামলায় বিমানবন্দর সাংগঠনিক ইউনিট বিএনপির সভাপতি আব্দুর রউফকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এরপর বিমানবন্দর থানা ছাত্রদলের সভাপতি রিপন, সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন শান্ত এবং বিমানবন্দর সাংগঠনিক ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রুবেলকে আসামি করা হয়।
মামলার বাদীর অভিযোগ, তাঁর বড় ভাই কাউসার মালয়েশিয়ায় বসবাস করেন। বোনের বিয়ে ও পরিবারের ব্যবহারের জন্য তিনি মালয়েশিয়া থেকে ২০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার পাঠিয়েছিলেন। গত ২৮ আগস্ট রাতে বিমানবন্দর থেকে সেই স্বর্ণ সংগ্রহ করে বন্ধু রোহান চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে ভাড়া করা একটি হায়েস গাড়িতে করে রওনা হন সুমন।
এজাহারে বলা হয়েছে, স্বর্ণের ১০০ গ্রাম বাদীর কাছে এবং বাকি ১০০ গ্রাম তাঁর বন্ধু রোহান চৌধুরীর কাছে ছিল। বিমানবন্দর এলাকা থেকে বের হওয়ার পর রাত আনুমানিক ৮টা ৫ মিনিটে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বলাকা ভবনের বিপরীত পাশে তাদের গাড়ির গতিরোধ করা হয়।
বাদীর অভিযোগ, গাড়ি থামানোর পর কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন। পাশাপাশি তাদের কাছে বোমা রয়েছে বলে ভয় দেখানো হয়। এরপর বাদী ও তাঁর বন্ধুকে মারধর করা হয়।
একপর্যায়ে তাঁদের কাছে থাকা মোট ২০০ গ্রাম স্বর্ণালংকার নিয়ে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার সময় আশপাশের কয়েকজন মানুষ এগিয়ে এসে ভুক্তভোগীদের সহায়তা করেন। একজন পথচারী তাদের রক্ষা করার চেষ্টা করেন। আরেকজন পথচারী মোবাইল ফোনে ঘটনার দৃশ্য ধারণ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্তের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এবং ঘটনার ভিডিওসহ অন্যান্য তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস