রাজধানীর বারিধারায় প্রাইভেট কারের চাপায় নির্মাণশ্রমিক নিহতের ঘটনায় আইনের সংস্পর্শে আনা কিশোরের জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। দুই হাজার টাকার মুচলেকায় তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮-এর বিচারক মো. আবদুল মোক্তাদির শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শরীফ উদ্দীন মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শরীফ উদ্দীন বলেন, কিশোরের পক্ষে আজ জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী খোরশেদ মিয়া আলম। রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে দুই হাজার টাকার মুচলেকায় আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে গত ২৪ সেপ্টেম্বর একই আদালত কিশোরকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দিয়েছিলেন। সেদিন তার পক্ষে জামিনের আবেদন করা হলেও শুনানি শেষে তা নামঞ্জুর করেন আদালত।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে বারিধারা ডিপ্লোমেটিক জোনের ১ নম্বর সড়কে প্রাইভেট কারের চাপায় নিহত হন নির্মাণশ্রমিক মেহেদী হাসান (২৪)। তাঁর বাড়ি নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সোনারায় গ্রামে। ঘটনার সময় ফুটপাতে বসে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন মেহেদী। এ সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কার ফুটপাতে উঠে গেলে গাড়ির চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।
এ ঘটনায় গুলশান থানায় মামলা করেন নিহত মেহেদীর ভাই মোক্তাদীর ইসলাম। মামলায় কিশোরের নাম উল্লেখ করা হয়নি। গাড়িচালক হিসেবে আকাশ মারক (৪৪) নামের এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। তবে পুলিশ এখনো তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
দুর্ঘটনার পর গাড়ির চালকের আসনে থাকা কিশোরকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন। জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ প্রথমে তাকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেয়। এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দুর্ঘটনায় কিশোরের সম্পৃক্ততা পায় পুলিশ। পরে তাকে আইনের সংস্পর্শে আনা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ১৭ বছর বয়সী ওই কিশোর ঢাকার গুলশান এলাকার একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ‘ও’ লেভেলের শিক্ষার্থী। তার বাবা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একজন ক্যাপ্টেন। দুর্ঘটনাকবলিত প্রাইভেট কারটি তার মায়ের নামে নিবন্ধিত।
সদ্য সংবাদ/ এআর