গাজীপুরের বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কার্যালয়ে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি, ঘুষ গ্রহণ এবং দাপ্তরিক কাজে বহিরাগতদের সম্পৃক্ত করার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছেন কার্যালয়টির সহকারী পরিচালক নুরুল হোসেন। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিবের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন এক নাগরিক।
অভিযোগপত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য অনুযায়ী, গাজীপুর বিআরটিএ কার্যালয়ে যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সেবা পেতে অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন সেবাগ্রহীতা। ফাইলপ্রতি ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া কার্যালয়ের কিছু দাপ্তরিক কাজে বহিরাগত কয়েকজনের প্রভাব রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগে আফজাল, রুহুল ও কমল নামের কয়েকজন ব্যক্তির কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, তাঁদের মাধ্যমে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়।
নুরুল হোসেনের বিরুদ্ধে এর আগে সাভার ও ইকুরিয়া বিআরটিএ কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনের সময়ও একই ধরনের অনিয়মের অভিযোগ ছিল বলে অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সরকারি ক্ষতিপূরণ পাওয়ার প্রক্রিয়ায়ও অর্থ দাবি করার অভিযোগ উঠেছে কার্যালয়ের কর্মচারী স্বপন হোসেনের বিরুদ্ধে। এক ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যের দাবি, ক্ষতিপূরণের ফাইল এগিয়ে নেওয়ার জন্য তাঁর কাছে ৩০ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছিল। পরে তাঁরা গাজীপুর কার্যালয়ের পরিবর্তে ঢাকায় বিআরটিএর প্রধান কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে চেক সংগ্রহ করেন।
কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী মারনুজ রহমানের বিরুদ্ধে নিয়মিত অফিসে উপস্থিত না থাকা এবং বহিরাগতদের দিয়ে দাপ্তরিক কাজ করানোর অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন সেবার বিপরীতে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন সেবাগ্রহীতারা।
তবে স্বপন হোসেন ও মাহফুজুর রহমান তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, এসব অভিযোগ তাঁদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ।
বিআরটিএ কার্যালয়ে সেবা নিতে গিয়ে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় পরিবহন খাতের কয়েকজন প্রতিনিধিও। বাসমালিক মো. মিরাজ মিয়া বলেন, নিয়ম মেনে আবেদন করার পরও কাজ সম্পন্ন করতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় এবং অর্থ ছাড়া ফাইল এগোয় না বলে তাঁদের অভিযোগ। গাজীপুর সিএনজি মালিক সমিতির নেতা মো. মিলন মিয়াও সেবাপ্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, নুরুল হোসেন আগামী ডিসেম্বরে অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) যাওয়ার কথা রয়েছে। তাঁর চাকরিজীবনের শেষ পর্যায়ে ওঠা অভিযোগগুলো দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আবেদনকারী মো. আবুল হোসেন।
এদিকে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় মাদারীপুরে সংঘটিত সহিংসতার তদন্ত নিয়েও নুরুল হোসেনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই সময়ের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে আন্দোলনকারীদের ‘নাশকতাকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট তদন্ত প্রতিবেদন ও নথিপত্র যাচাই করে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, গাজীপুর বিআরটিএ কার্যালয়ের সেবাপ্রক্রিয়া স্বচ্ছ করতে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, দালালদের প্রভাব বন্ধ এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
সদ্য সংবাদ/এসএস