বলিউড অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুরের পরিচয় ও ছবি ব্যবহার করে আপত্তিকর কনটেন্ট তৈরির ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। অভিনেত্রীর আবেদনের পর এমন কনটেন্ট সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তবে আবেদনে উল্লেখ করা সব কনটেন্ট একযোগে সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
প্রাথমিকভাবে ৫৫২টি ইউআরএলকে চরম আপত্তিকর ও পর্নোগ্রাফির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে সেগুলো সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শ্রীদেবী ও প্রযোজক বনি কাপুরের কন্যা জাহ্নবী কাপুর বলিউডের বর্তমান প্রজন্মের অন্যতম পরিচিত অভিনেত্রী।
২০১৮ সালে ‘ধড়ক’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেকের পর একের পর এক সিনেমায় অভিনয় করে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বেশ সক্রিয় এই তারকা।আর সেই পরিচিতিকেই কাজে লাগিয়ে অনলাইনে তার নামে নানা ধরনের কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এমন পরিস্থিতিতে নিজের ব্যক্তিত্বের অধিকার ও পরিচয়ের অপব্যবহার ঠেকাতে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন জাহ্নবী।
মামলায় তার নাম, ছবি ও পরিচয় ব্যবহার করে তৈরি বিভিন্ন ডিজিটাল কনটেন্ট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট, এআই-নির্ভর কনটেন্ট এবং বাণিজ্যিক ব্যবহারের অভিযোগ তোলা হয়।
জাহ্নবীর মামলায় মোট ৬ হাজার ৮৮৪টি ইউআরএল বা অনলাইন লিংকের উল্লেখ ছিল। এসবের মধ্যে পর্নোগ্রাফিক ও আপত্তিকর কনটেন্টের পাশাপাশি তার পরিচয় ব্যবহার করে বাণিজ্যিক সুবিধা নেওয়া, বিভিন্ন পণ্য বা সেবা বিক্রির প্রচেষ্টা এবং অন্যান্য ডিজিটাল কনটেন্টের অভিযোগও ছিল।
তবে এত বিপুলসংখ্যক লিংক একসঙ্গে সরানোর আবেদনকে অতিরিক্ত বিস্তৃত বলে মনে করেছে আদালত। আদালতের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মামলায় উল্লেখ থাকা ৫৫২টি ইউআরএলে অত্যন্ত আপত্তিকর বা পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট পাওয়া গেছে। এসব কনটেন্ট জাহ্নবীর অনুমতি ছাড়াই তার নাম, ছবি বা পরিচয় ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে বলে আদালতের সামনে প্রতীয়মান হয়েছে।
ফলে এসব কনটেন্টের কারণে অভিনেত্রীর অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে- এমন আশঙ্কা বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে দ্রুত সেগুলো সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে মামলায় থাকা বাকি ৬ হাজার ৩৩২টি লিংক নিয়ে এখনই একই ধরনের নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
সদ্য সংবাদ/এসআর