‘ডার্ক ইগল’ সাধারণ কোনো ক্ষেপণাস্ত্র নয়। এটি শব্দের গতির কমপক্ষে পাঁচ গুণ বেশি গতিতে ছুটতে পারে। এর পাল্লা প্রায় ১ হাজার ৭২৫ মাইল বা প্রায় ২ হাজার ৭৭৬ কিলোমিটার। ফলে কয়েক হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতেও এটি অল্প সময়ের মধ্যেই আঘাত হানতে পারে।
প্রচলিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সাধারণত একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথ অনুসরণ করে, যা আগাম অনুমান করা সম্ভব। কিন্তু ‘ডার্ক ইগল’ বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে উঠে নিজের গতিপথ পরিবর্তন বা ম্যানুভার করতে পারে। ফলে এটি লক্ষ্যবস্তুর দিকে এঁকেবেঁকে অগ্রসর হতে সক্ষম, যা একে প্রচলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত করেছে।
এই ক্ষেপণাস্ত্রটি মূলত একটি ‘কমন হাইপারসোনিক গ্লাইড বডি’ বহন করে। বুস্টার রকেট থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর গ্লাইড বডিটি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে লক্ষ্যবস্তুর দিকে ধাবিত হয় এবং মাঝপথে গতিপথ পরিবর্তনের সক্ষমতা রাখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ‘ডার্ক ইগল’-এর গুরুত্ব অনেক বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অস্ত্রের প্রধান উদ্দেশ্য হলো দীর্ঘ দূরত্বের লক্ষ্যবস্তুতে দ্রুত ও নিখুঁত আঘাত হানার সক্ষমতা অর্জন করা। এতে প্রতিপক্ষের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় এবং যুদ্ধক্ষেত্রে মুহূর্তেই পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে।
হাইপারসোনিক অস্ত্র প্রযুক্তিতে রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে যুক্তরাষ্ট্র এই অত্যাধুনিক ‘ডার্ক ইগল’ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই, রয়টার্স।