চাঁদাবাজির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সুফি সাগর শামসকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার শুনানি শেষে এ আদেশ দেওয়া হয়।
সুফি সাগর শামসকে আওয়ামী যুবলীগের বনানী থানা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক এবং একটি মানবাধিকার সংগঠনের উপদেষ্টা হিসেবে পরিচয় দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চাঁদা দাবি এবং প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বরাত দিয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সুফি সাগরের বিরুদ্ধে এর আগেও চাঁদাবাজি ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা রয়েছে। ২০২৪ সালে ডিবির হাতে গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে কথিত ডক্টরেট ডিগ্রির সনদ ও ভিজিটিং কার্ড উদ্ধারের কথা জানিয়েছিল পুলিশ। সে সময় তার বিরুদ্ধে মানবাধিকার সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে চাপ দেওয়ার অভিযোগও ওঠে।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, একটি সংগঠনের পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তৈরি করে তা সরকারি দপ্তরে পাঠানো এবং পরে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে অর্থ দাবি করা হতো। অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে সংবাদ সম্মেলন বা সামাজিকভাবে হেয় করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। ২০২৪ সালের ডিবির বক্তব্যেও এ ধরনের অভিযোগের কথা উঠে আসে।
সাম্প্রতিক ঘটনায় রামপুরা থানায় দায়ের হওয়া চাঁদাবাজির মামলায় তাকে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুসন্ধানে রাজধানীতে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একটি ঝটিকা মিছিলের পেছনে তার অর্থসংযোগের তথ্য এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ে যাত্রাবাড়ীর সহিংসতার সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার দাবি করা হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এর আগে গত ২৩ আগস্ট দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর সুফি সাগরকে ডিবি গ্রেপ্তার করে বলে জানা গেছে। পরে আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর আবারও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগ ওঠে।
এদিকে সুফি সাগরের প্রতিষ্ঠিত বলে উল্লেখ করা ‘আইন ও মানবাধিকার সুরক্ষা ফাউন্ডেশন’ নিয়েও অতীতে নানা অভিযোগের কথা জানিয়েছিল ডিবি। সংগঠনটির নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এর চেয়ারম্যান ও মহাসচিবকে গ্রেপ্তারের তথ্যও প্রকাশ্যে এসেছিল।
বর্তমানে নতুন মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানোর পর তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সদ্য সংবাদ/এসএস