শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সশস্ত্র বাহিনী দিবস–২০২৫ উপলক্ষে ঢাকার সেনাকুঞ্জে আয়োজিত সংবর্ধনা এ মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে তিন বাহিনীর প্রধান, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা, শান্তিরক্ষী সদস্যদের পরিবারসহ দেশি–বিদেশি অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্যের শুরুতেই প্রধান উপদেষ্টা মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং যুদ্ধাহত বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। একইসঙ্গে তিনি ২০২৪ সালের ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের সময় যারা প্রাণ দিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন, তাদের স্মরণ করেন।
ড. ইউনূস বলেন, 'বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর জন্মই হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের ময়দানে। ২৫ মার্চের রাত থেকে শুরু হওয়া বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈনিকদের সংগ্রাম ২১ নভেম্বর সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর যৌথ অভিযানের মধ্য দিয়ে নতুন গতি পায় এবং শেষ পর্যন্ত ১৬ ডিসেম্বরের বিজয় নিশ্চিত করে। এই ইতিহাস জাতিকে চিরকাল পথ দেখাবে।'
দেশ পুনর্গঠন এবং চব্বিশ পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দিতে সেনাবাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, 'জনগণের আস্থা রক্ষা এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সশস্ত্র বাহিনী সবসময়ই অগ্রভাগে থাকে। তিনি আগামীর নির্বাচনকে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব প্রদর্শন করতে হবে।'
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, 'বাংলাদেশ শান্তিপ্রিয় দেশ হলেও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে প্রস্তুত থাকা অপরিহার্য। তাই তিন বাহিনীর আধুনিকায়ন, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন এবং উন্নত প্রশিক্ষণের কাজ ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে চলছে। গত ৩৭ বছরে ৪৩টি দেশে ৬৩টি শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃত হয়েছে—বিশেষ করে নারী শান্তিরক্ষী পাঠানোয় বাংলাদেশ এখন বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর একটি।'
বক্তব্যের শেষাংশে অধ্যাপক ইউনূস অতিথিদের উপস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ও তাদের পরিবারের মঙ্গল কামনা করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন—দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে বাংলাদেশ আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ একটি রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে উঠবে।