ভারতের রাজধানী দিল্লির কূটনৈতিক এলাকা চানক্যপুরীতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে শনিবার (২১ ডিসেম্বর) রাতে ‘হিন্দু চরমপন্থীদের’ একটি দল বিক্ষোভ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিরাপত্তা বেষ্টনি ভেদ করে তারা হাইকমিশনের মূল ফটকের সামনে অবস্থান নেয় এবং বাংলাদেশবিরোধী স্লোগান দেয়।
রোববার দুপুরে বাংলাদেশের কয়েকটি গণমাধ্যমে খবরটি প্রকাশ পেলেও শুরুতে ভারত বা বাংলাদেশের কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। পরে বিকেলে প্রথমে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল ফেসবুকে একটি বিবৃতি দেন এবং তার কিছুক্ষণ পর ঢাকায় প্রেস ব্রিফিং করেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা অভিযোগ করেন, বিক্ষোভকারীরা হাইকমিশনের নিরাপত্তা বেষ্টনি ভেদ করে ভেতরে প্রবেশ করে এবং ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহকে হুমকি দেয়। তিনি বলেন, কূটনৈতিক এলাকার গভীরে অবস্থিত একটি মিশনের সামনে এভাবে বিক্ষোভকারীদের পৌঁছে যাওয়া গুরুতর নিরাপত্তা ব্যর্থতার ইঙ্গিত দেয়।
তবে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেয়া বিবৃতিতে দাবি করা হয়, ২০–২৫ জন যুবক বাংলাদেশের ময়মনসিংহে দিপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে হাইকমিশনের সামনে স্লোগান দেয়। বিবৃতিতে বলা হয়, তারা নিরাপত্তা বেষ্টনি ভাঙার চেষ্টা করেনি বা কোনো ধরনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি সৃষ্টি করেনি। পুলিশ কয়েক মিনিটের মধ্যেই তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় বলেও দাবি করা হয়।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ভারতের এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “হাইকমিশনের মতো সংবেদনশীল এলাকায় এমন একটি দল পৌঁছাতে পারা মানেই তাদের আসতে দেওয়া হয়েছে। তারা শুধু স্লোগান দেয়নি, হাইকমিশনার ও তার পরিবারের জন্য এটি আতঙ্কের কারণ হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, সাধারণত কোনো দূতাবাস এলাকায় বিক্ষোভ হলে আগেই সংশ্লিষ্ট মিশনকে জানানো হয় এবং পুলিশ দূরেই বিক্ষোভকারীদের আটকে দেয়, যা এ ক্ষেত্রে দেখা যায়নি।
প্রসঙ্গত, ময়মনসিংহের ভালুকায় দিপু চন্দ্র দাস নামে এক হিন্দু পোশাক শ্রমিক হত্যার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। র্যাব জানিয়েছে, এ ঘটনায় ধর্ম অবমাননার কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের বিবৃতিতে ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী বিদেশি মিশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে এবং বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
এদিকে তৌহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশ আশা করে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না এবং ভারত তার কূটনৈতিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করবে।