সম্প্রতি একটি টেলিভিশন টক শোতে অংশ নিয়ে ফজলে শামীম বলেন, 'যারা বন্ধ হয়ে গেছে তারা তো শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু যারা আছি, আমরা কি বেঁচে আছি? আমরা মৃত্যুর পথযাত্রী, আমরা ধুঁকছি। কতদিন এই গার্মেন্টস সেক্টরে টিকতে পারব, তা জানি না।'
তিনি জানান, প্রায় ২৮ বছর ধরে গার্মেন্টস ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ২০২৫ সালই তার জীবনের একমাত্র বছর, যখন তিনি লোকসানের মুখে পড়েছেন।
কোভিড-১৯ মহামারির সময়ের অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন ফজলে শামীম বলেন, 'কোভিডের সময় এপ্রিল মাসে ফ্যাক্টরি বন্ধ থাকলেও আমি শ্রমিকদের পূর্ণ বেতন দিয়েছি। আমি বলেছিলাম, তারা কীভাবে চলবে? তাদেরও তো পরিবার আছে। তখনও আমার লস হয়নি। অথচ এখন, এই ২০২৫ সালে আমার দুই থেকে তিন বছরের প্রফিটের সমান টাকা চলে গেছে।'
বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, 'আন্তর্জাতিক বাজারে অর্ডার কমে গেছে, তার ওপর ক্রেতাদের কাছ থেকে দাম কমানোর চাপ রয়েছে। একই সঙ্গে দেশে উৎপাদন ব্যয় ও সরকারি নানা খরচ বেড়েছে। আমরা প্রফিট করতে পারছি না। চারদিকে শুধু চাপ আর চাপ।'
ঘুষ ও দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে ফজলে শামীম বলেন, 'এত রক্তের বিনিময়ে যে বিপ্লব হয়েছে, ভেবেছিলাম অন্তত ঘুষ কমবে। কিন্তু ঘুষ তো কমেই নাই, বরং কিছু কিছু জায়গায় বেড়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'যারা মববাজ, তারা কিন্তু বন্ড অফিস, কাস্টম অফিস বা চট্টগ্রাম বন্দরে গিয়ে মব করে না, যেখানে ঘুষ নেওয়া হয়। সেখানে গিয়ে কেউ বলে না, চল ঘুষখোরদের ধরব। ওইসব জায়গায় কোনো মব হয় না, মব হয় অন্য খারাপ কারণে।'
গার্মেন্টস খাতের এই সংকট দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।