ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় তদন্তের অগ্রগতি জানাতে আজ রবিবার একটি সমন্বিত সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে র্যাব, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেবেন। সংবাদ সম্মেলনে এ পর্যন্ত তদন্তে পাওয়া তথ্য, গ্রেপ্তারকৃতদের ভূমিকা এবং পরবর্তী করণীয় তুলে ধরা হবে।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, সব সংস্থার সমন্বয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে এবং সেখানে তদন্তের সার্বিক চিত্র উপস্থাপন করা হবে।
এদিকে হাদিকে গুলির ঘটনায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলাটি শনিবার হত্যা মামলা হিসেবে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করলে আদালত তা আমলে নেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকা–৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছিলেন হাদি। প্রচারণা শেষে ফেরার পথে গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগরের কালভার্ট রোডে চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় তাকে গুলি করা হয়।
এ ঘটনায় এ পর্যন্ত মোট ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে র্যাব আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা হলেন—প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা হুমায়ুন কবির, মা হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা, সহযোগী মো. কবির ওরফে দাঁতভাঙা কবির, মো. ফয়সাল এবং গুলির ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক আব্দুল হান্নান।
অন্যদিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে সীমান্তে অবৈধভাবে লোক পারাপারে জড়িত সঞ্জয় চিসিম ও সিবিয়ন দিও এবং ফয়সালকে পালাতে সহায়তাকারী মো. নুরুজ্জামান নোমানীকে। এছাড়া দুই গাড়িচালককে মামলার সাক্ষী করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৪ ডিসেম্বর রাতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। এজাহারে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফয়সাল করিম মাসুদসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়। অভিযোগে হত্যাচেষ্টার পরিকল্পনা ও অর্থ জোগানদাতাদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়।
হাদির মৃত্যুর পর শনিবার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে তার মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। মর্গ সূত্র জানায়, মাথায় গুলির চিহ্ন ছাড়াও বুকে একটি ফুটো পাওয়া গেছে, যা চিকিৎসার প্রয়োজনে করা হয়ে থাকতে পারে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। তদন্তকারীদের মতে, গুলি ছোড়েন ফয়সাল করিম মাসুদ এবং মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন আলমগীর হোসেন ওরফে আলমগীর শেখ। গুলির ১২ ঘণ্টার মধ্যেই তারা ময়মনসিংহের ধোবাউড়া–হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যান বলে জানা গেছে।