কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা জোরদার, বিশেষ করে মাইন অপসারণ এবং তেলবাহী জাহাজ সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ প্রয়োজন। এ প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প টোকিওর কাছে আরও সক্রিয় সামরিক সহযোগিতা চাইতে পারেন। অতীতে মিত্র দেশগুলোর ‘সীমিত সহায়তা’ নিয়ে অসন্তোষও প্রকাশ করেছেন তিনি।
এ পরিস্থিতিতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি পড়েছেন অস্বস্তিকর অবস্থায়। দেশটির শান্তিবাদী সংবিধানের সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে কতটা সহায়তা দেওয়া সম্ভব—তা নিয়ে টোকিওতে চলছে ব্যাপক পর্যালোচনা। জাপানে ইরান যুদ্ধ নিয়ে জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া থাকায় এখনো হরমুজ প্রণালিতে সহায়তা পাঠানোর বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি সরকার।
এদিকে ইউরোপের বড় মিত্র দেশ—জার্মানি, ইতালি ও স্পেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই অভিযানে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, যা ওয়াশিংটনের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। জাপানি পার্লামেন্টে সম্প্রতি তাকাইচি জানান, যুক্তরাষ্ট্র এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অনুরোধ জানায়নি, তবে সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা চলছে।
বিশ্লেষকদের মতে, তাকাইচির এই সফরের মূল লক্ষ্য ছিল ট্রাম্পের আসন্ন চীন সফরের আগে বেইজিং ও তাইওয়ান ইস্যুতে জাপানের উদ্বেগ তুলে ধরা। তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে ইরান সংকট।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুদ পুনরুদ্ধারে জাপানের সঙ্গে যৌথ উৎপাদনের প্রস্তাবও উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত অবস্থান নির্ধারণ করেনি টোকিও।
উল্লেখ্য, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও জাপানের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। ফলে সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধানে জাপান ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা, যদিও অতীতে এমন প্রচেষ্টা সফল হয়নি।
বৈঠকে ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা উদ্যোগে জাপানের অংশগ্রহণ নিয়েও আলোচনা হতে পারে। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগের অংশ হিসেবে প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলারের নতুন প্রকল্প ঘোষণার সম্ভাবনাও রয়েছে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, দুই নেতা বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়ন, জ্বালানি, সরবরাহ চেইন নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বিজ্ঞান-প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা করবেন। তবে ইরান ইস্যুতে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব এশিয়ার বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে জাপানের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।