বুধবার (২৫ মার্চ) সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠকে তিনি স্বীকার করেন, বয়স্ক ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের স্বল্প নোটিশে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। হিজবুল্লাহর রকেট হামলার ক্ষেত্রে আগাম সতর্কবার্তা প্রায় পাওয়া যায় না বললেই চলে। সাইরেন বাজার পর নিরাপদ স্থানে যেতে বাসিন্দাদের হাতে থাকে মাত্র কয়েক সেকেন্ড।
প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বানের পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করেছেন। মাত্তে আশের আঞ্চলিক কাউন্সিলের প্রধান মোশে দাভিদোভিচ অভিযোগ করেন, নাগরিকদের সুরক্ষায় সরকারের ঘোষিত পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি ২০১৮ সালে ঘোষিত ‘নর্দান শিল্ড’ প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে বলেন, সীমান্তবর্তী হাজারো বাড়িতে বোমা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এখনো অনেক মানুষ পর্যাপ্ত সুরক্ষা ছাড়াই বসবাস করছেন।
তার মতে, অতীতে সংঘাতের সময় বহু মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হলেও এবার বাসিন্দারা নিজ ঘরেই অনিরাপদ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। বাজেটে সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ কমে যাওয়ায় সীমান্তবর্তী হাজার হাজার বাড়ি ও অ-আবাসিক স্থাপনা বর্তমানে রকেট হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে।
এদিকে মার্গালিওট মোশ্যাভের মেয়র ইতান দাভিদি সাম্প্রতিক এক হামলায় নিহত ২৭ বছর বয়সী নুরিএল দুবিনের প্রসঙ্গ তুলে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, আগামী সেপ্টেম্বরে বিয়ের অপেক্ষায় থাকা ওই তরুণীকে বিয়ের মঞ্চের বদলে কবরে যেতে হয়েছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “ইসরায়েল আমাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা লেবাননের হাতে ছেড়ে দিয়েছে।”
কিরিয়াত শমোনা শহরের মেয়র আভিচাই স্টার্নও সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, যুদ্ধের ফলাফল যাই হোক না কেন, যদি দেশের একটি শহরই ধ্বংস হয়ে যায়, সেটিই হবে সবচেয়ে বড় পরাজয়। কথা বলতে গিয়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। জানান, প্রায় ২৪ হাজার জনসংখ্যার শহরটিতে এখন মাত্র ১০ হাজার মানুষ অবশিষ্ট রয়েছে। এভাবে পরিস্থিতি চলতে থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই শহরটি জনশূন্য হয়ে পড়তে পারে।
তিনি জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ৪ হাজার ৭০০টি অরক্ষিত বাড়ি থেকে মানুষ সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানান এবং বিশেষ করে যারা শারীরিকভাবে অক্ষম, তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে হিজবুল্লাহর হামলা উত্তর ইসরায়েলের জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। বৃহস্পতিবারও গোষ্ঠীটির ছোড়া ক্লাস্টার বোমায় একজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
যদিও ইসরায়েল দাবি করছে তারা হিজবুল্লাহ ও ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংসের লক্ষ্যে অভিযান চালাচ্ছে, তবে সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, তারা প্রতিনিয়ত মৃত্যুভয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত ও কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় নেতারা।