মূল লক্ষ্য ইরানে সরকার পরিবর্তন, এবার ‘প্ল্যান বি’তে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল

A
Admin
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৬:৩৭:৩০
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) পর্যন্ত টানা ১৩ দিনে গড়িয়েছে। এ সময়ের মধ্যে দেশটিতে নিহতের সংখ্যা এক হাজার ৭০০ ছাড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েক হাজার মানুষ। তবে সংঘাত বন্ধ হওয়ার কোনো ইঙ্গিত এখনো পাওয়া যাচ্ছে না।

যুদ্ধের প্রথম দিনেই ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ অন্তত ৪৮ জন শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক কর্মকর্তা নিহত হন।

এ অভিযানের মূল পরিকল্পনা ছিল, শীর্ষ নেতৃত্বকে সরিয়ে দিয়ে দ্রুত ইরানের সরকার পরিবর্তন ঘটানো। কিন্তু প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সে ধরনের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, এ যুদ্ধের পেছনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দৃশ্যমান মুখ হলেও সংঘাতের কৌশলগত নেতৃত্বে আছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা বেশি হলেও এই অভিযানে ইসরায়েলই প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ছিল ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর শীর্ষ কমান্ডারদের হত্যা করে ক্ষমতাসীন কাঠামোকে দুর্বল করা, যাতে দেশটির ইসলামি শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ে। কিন্তু সেই পরিকল্পনা প্রত্যাশা অনুযায়ী সফল হয়নি।

এদিকে খামেনির মৃত্যুর পর ইরান নতুন সুপ্রিম লিডার হিসেবে মোজতবা খামেনিকে দায়িত্ব দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বিকল্প নেতৃত্বের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ফলে নেতৃত্বহীনতার মাধ্যমে সরকার পতনের পরিকল্পনা কার্যত ব্যর্থ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এখন নতুন কৌশল বা ‘প্ল্যান বি’তে যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

‘প্ল্যান বি’-এর দুই কৌশল
নতুন পরিকল্পনায় দুটি কৌশল রয়েছে। এর মধ্যে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বের কৌশলটি হলো—কুর্দি ও বালুচদের মতো সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে তাদের বিদ্রোহকে উসকে দেওয়া, যাতে ইরানের ভেতরে অস্থিরতা তৈরি হয়।

আরও গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে ধরা হচ্ছে জনগণের মধ্যে সরকারের প্রতি সমর্থনে ফাটল ধরানো। এ কৌশলকে সামরিক বিশ্লেষকদের ভাষায় ‘দাহিয়া নীতি’ বলা হয়।

এই নীতির মূল ধারণা হলো—কোনো বিদ্রোহ দমন করা না গেলে বা প্রতিপক্ষ রাষ্ট্রের নেতৃত্বকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব না হলে বেসামরিক অবকাঠামোতে ব্যাপক ও ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত করা। এতে জনগণের ওপর চাপ তৈরি হয়ে তারা নিজেদের সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষাবাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী ইতোমধ্যে ইরানের অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র, যোগাযোগব্যবস্থা ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হানার ঘটনা বাড়ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই কৌশল বাস্তবায়ন হলে সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার পাশাপাশি বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতিও বাড়তে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধ থামার কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

মন্তব্য (0)

মন্তব্য করুন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

বিজ্ঞাপনের জন্য খালি স্পেস

শিরোনাম:
সদ্য. তারেক রহমানের সঙ্গে এরদোয়ানের বৈঠক, সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় সদ্য. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ট্রাম্প সদ্য. চলতি বছর শুরু হচ্ছে না স্থানীয় সরকার নির্বাচন: প্রতিমন্ত্রী সদ্য. ট্রাম্প-মেলানিয়ার অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে তারেক-জুবাইদা সদ্য. কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগ নেতা ও সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর গ্রেপ্তার সদ্য. বিশ্ববাজারে ফের কমলো তেলের দাম সদ্য. চলন্ত অবস্থায় খুলে যায় মেট্রোরেলের দরজা, ২৬ মিনিট বন্ধ ট্রেন চলাচল সদ্য. এইচএসসি-সমমানের ফল প্রকাশ হতে পারে ৭-১৫ নভেম্বরের মধ্যে সদ্য. বাসের বাড়তি ভাড়া কার্যকরে প্রজ্ঞাপন জারি সদ্য. জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় মোজাফফরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির সদ্য. তারেক রহমানের সঙ্গে এরদোয়ানের বৈঠক, সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় সদ্য. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ট্রাম্প সদ্য. চলতি বছর শুরু হচ্ছে না স্থানীয় সরকার নির্বাচন: প্রতিমন্ত্রী সদ্য. ট্রাম্প-মেলানিয়ার অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে তারেক-জুবাইদা সদ্য. কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগ নেতা ও সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর গ্রেপ্তার সদ্য. বিশ্ববাজারে ফের কমলো তেলের দাম সদ্য. চলন্ত অবস্থায় খুলে যায় মেট্রোরেলের দরজা, ২৬ মিনিট বন্ধ ট্রেন চলাচল সদ্য. এইচএসসি-সমমানের ফল প্রকাশ হতে পারে ৭-১৫ নভেম্বরের মধ্যে সদ্য. বাসের বাড়তি ভাড়া কার্যকরে প্রজ্ঞাপন জারি সদ্য. জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় মোজাফফরকে ট্রাইব্যুনালে হাজির