জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর খুলনা বিভাগীয় প্রধান মোতালেব শিকদারের মাথায় গুলির ঘটনায় প্রাথমিকভাবে কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)। এ ছাড়া গুলিবিদ্ধ মোতালেব বর্তমানে শঙ্কামুক্ত বলে চিকিৎসকদের বরাতে জানিয়েছে পুলিশ।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে খুলনার সোনাডাঙ্গা এলাকায় গুলির ঘটনাটি ঘটে। শুরুতে গাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কাছে দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়—এমন তথ্য পাওয়া গেলেও পরে পুলিশের তদন্তে ভিন্ন তথ্য উঠে আসে।
কেএমপির মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সোনাডাঙ্গা এলাকার আল আকসা মসজিদ রোডে ‘মুক্তা হাউজ ১০৯’ নামের একটি ভবনের নিচতলায় গুলিবিদ্ধ হন মোতালেব শিকদার। এটি তার নারীসঙ্গী তন্বীর ভাড়া বাসা, যেখানে তিনি গত দুই মাস ধরে অবস্থান করছিলেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে রাস্তায় গোলাগুলির বিষয়ে বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা জবানবন্দি দেওয়া হয়েছিল। তবে ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, আগের দিন রাত সাড়ে ১২টার দিকে দুজন ব্যক্তি ওই বাসায় প্রবেশ করেন।
তদন্তে আরও জানা যায়, মোতালেব শিকদার খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবুর অনুসারী সৌরভ ও তার সহযোগীদের সঙ্গে চাঁদাবাজিতে জড়িত ছিলেন। চাঁদার অর্থের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এই অন্তর্কোন্দলের জের ধরেই তাকে গুলিবিদ্ধ করা হয়ে থাকতে পারে।
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ পাঁচটি বিদেশি মদের খালি বোতল, একটি পিস্তলের গুলির খোসা, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম এবং অনৈতিক কার্যক্রমের বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করেছে।
এদিকে চিকিৎসকদের বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, গুলিবিদ্ধ মোতালেব শিকদার বর্তমানে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে চিকিৎসাধীন। তার সিটি স্ক্যান রিপোর্ট স্বাভাবিক এবং তিনি আশঙ্কামুক্ত।
এ বিষয়ে মুক্তা হাউজের মালিকের স্ত্রী আশরাফুন্নাহার বলেন, এক মাস আগে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে তন্বী নামের এক তরুণী নিচতলার ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেন। তিনি নিজেকে এনজিওকর্মী হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং প্রায়ই বাড়ির বাইরে থাকতেন। তার কক্ষে একাধিক পুরুষের যাতায়াত ছিল। পরে অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ ওঠায় চলতি মাসে তাকে বাসা ছাড়ার নোটিশ দেওয়া হয়। এর আগেই গুলির ঘটনাটি ঘটে।