ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের পেছনে গভীর ও পূর্ব-পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ছিল বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল দাউদ এবং তার এক সহযোগী ইতিমধ্যে অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়েছে।
রোববার সকালে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ময়মনসিংহের দুর্গম সীমান্ত এলাকা দিয়ে স্থানীয় দালালচক্রের সহায়তায় তারা দেশত্যাগ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তদন্তের অগ্রগতি তুলে ধরে নজরুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডটি আকস্মিক নয়—সুশৃঙ্খলভাবে সাজানো একটি পরিকল্পনার অংশ। এ পর্যন্ত ষড়যন্ত্রে জড়িত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ছয়জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন, যেখানে হত্যার উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনার বিস্তারিত উঠে এসেছে। আগামী ৭–৮ দিনের মধ্যে মামলার পূর্ণাঙ্গ চার্জশিট দাখিলের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে জুমার নামাজ শেষে অনুসারীদের সঙ্গে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাওয়ার পথে পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে মোটরসাইকেলে আসা ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী চলন্ত অবস্থায় শরিফ ওসমান বিন হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে এবং ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলা করেন। হাদির মৃত্যুর পর ২০ ডিসেম্বর আদালতের নির্দেশে মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা সংযোজন করা হয়।