শুক্রবার (৩ এপ্রিল) শাহবাজ গভীর রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বলেন, 'মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট সৃষ্টি হয়েছে। জনগণের জীবন স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমি শান্ত থাকব না।'
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে আকস্মিকভাবে পেট্রোলের দাম ৪২.৭ শতাংশ বৃদ্ধি করে লিটার প্রতি ৪৮৫ রুপি নির্ধারণ করলে দেশজুড়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তীব্র সমালোচনার মুখে সরকার শুক্রবার দাম কিছুটা কমিয়ে ৩৭৮ রুপি ঘোষণা করে। তবে ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রেখে ৫২০ রুপিতে রেখেছে, যা গত কয়েক দিনে প্রায় ৫৪.৯ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।
সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী কৃচ্ছ্রসাধনের উদ্যোগও গ্রহণ করেছেন। আগামী ছয় মাস কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার কোনো সদস্য বেতন গ্রহণ করবেন না। সরকারি অফিসের কর্মদিবস চার দিনে সীমিত করা হয়েছে এবং স্কুলে অনলাইন ক্লাস চালু করা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি জানান, শনিবার থেকে ইসলামাবাদের সরকারি বাস ও ট্রেনে যাতায়াত বিনামূল্যে হবে। এতে সরকারের প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন রুপি ব্যয় হবে।
বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, পাকিস্তানের প্রায় ২৪ কোটি জনসংখ্যার ২৫ শতাংশই দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। সাধারণ মানুষ অভিযোগ করেছেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত পূরণের চাপ ও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সরকারের নীতি তাদের ওপর অতিরিক্ত বোঝা চাপাচ্ছে।