অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের মানবাধিকার পরিস্থিতি বিষয়ক জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সেস্কা আলবানিজ শুক্রবার (২০ মার্চ) প্রকাশিত ‘নির্যাতন এবং গণহত্যা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্যাতন ভয়াবহ মাত্রায় পৌঁছেছে, যা ‘সম্মিলিত প্রতিশোধ’ ও ‘ধ্বংসাত্মক উদ্দেশ্য’ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। রোববার (২২ মার্চ) দেওয়া এক বিবৃতিতে আলবানিজ বলেন, এই অমানবিক আচরণের মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি সাধন করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, আটক ফিলিস্তিনিদের ওপর মারধর, যৌন সহিংসতা, ধর্ষণ, খাদ্য থেকে বঞ্চিত করা এবং মৌলিক অধিকার হরণসহ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন চালানো হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ড পরিকল্পিত ও পদ্ধতিগতভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
গত কয়েক মাসে অধিকৃত অঞ্চলগুলো থেকে ফিলিস্তিনিদের গ্রেপ্তারের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ পর্যন্ত অন্তত ১৮ হাজার ৫০০ জনকে আটক করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ১ হাজার ৫০০ জনের বেশি শিশু। বর্তমানে প্রায় ৯ হাজার ফিলিস্তিনি ইসরায়েলের কারাগারে বন্দি রয়েছেন। এছাড়া ৪ হাজারের বেশি মানুষ গুম বা জোরপূর্বক নিখোঁজ হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
আলবানিজের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের বন্দিশালাগুলো এখন ‘পদ্ধতিগত অবমাননা, জবরদস্তি ও সন্ত্রাসের শাসনে’ পরিচালিত হচ্ছে। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের প্রসিকিউটরের কাছে ইসরায়েলের কয়েকজন কট্টরপন্থী মন্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি জানান, এই অভিযোগের পক্ষে অন্তত ৩০০টি সাক্ষ্য ও লিখিত প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে, যা সোমবার জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে উপস্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ফিলিস্তিনের অবশিষ্ট অংশ রক্ষায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি; বিলম্ব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।
এদিকে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার দায়ের করা গণহত্যা মামলায় আইসল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে দেশ দুটি তাদের হস্তক্ষেপের ঘোষণা দিয়ে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান সংঘাতে গাজায় এ পর্যন্ত অন্তত ৭২ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১ লাখ ৭২ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
ফ্রান্সেস্কা আলবানিজ অবিলম্বে এ ধরনের নির্যাতন বন্ধে ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন।