প্রেম কিংবা সম্পর্কে না থেকেও জীবনকে নিজের মতো করে উপভোগ করা যায়- এমন বার্তা নিয়েই বিভিন্ন দেশে পালিত হয় ‘সিঙ্গেল দিবস’। আজ ২৩ সেপ্টেম্বর, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে একা থাকা মানুষদের জন্য বিশেষভাবে দিনটি উদযাপন করা হচ্ছে।
সিঙ্গেল থাকা নিয়ে অনেকের মধ্যে হতাশা বা নেতিবাচক ধারণা থাকলেও দিনটির মূল উদ্দেশ্য হলো একা থাকার বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখা। নিজের ক্যারিয়ার, ব্যক্তিগত উন্নয়ন, পছন্দের কাজ কিংবা আত্মযত্নে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ হিসেবে সিঙ্গেল জীবনকে দেখার কথাই তুলে ধরা হয় এ দিনে।
প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী, কারেন রিড নামের এক ব্যক্তির উদ্যোগে ২৩ সেপ্টেম্বর সিঙ্গেল দিবস পালনের ধারণাটি জনপ্রিয় হয়। তবে দিনটির ইতিহাস নিয়ে বিভিন্ন তথ্য প্রচলিত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে ২৩ সেপ্টেম্বর দিনটি পালনের কথা বলা হলেও চীনে ‘সিঙ্গেল ডে’ পালিত হয় ১১ নভেম্বর।
১১ নভেম্বর তারিখটির সঙ্গে সিঙ্গেল ডে’র সম্পর্ক মূলত চীনের সঙ্গে জড়িত। তারিখটি লিখলে চারটি ‘১’ দেখা যায়, যা একা বা সিঙ্গেল ব্যক্তিকে প্রতীকীভাবে বোঝায়। প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০-এর দশকে নানজিং বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর উদ্যোগে ১১ নভেম্বরকে কেন্দ্র করে একা থাকার বিষয়টি উদযাপনের চল শুরু হয়।
পরবর্তীতে এই ধারণা চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং ধীরে ধীরে দেশটির জনপ্রিয় সংস্কৃতির অংশ হয়ে ওঠে। একসময় দিনটি শুধু সিঙ্গেল থাকার উদযাপনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং কেনাকাটা ও বিনোদনের সঙ্গেও যুক্ত হয়ে যায়।
চীনে ১১ নভেম্বর এখন বিশ্বের অন্যতম বড় অনলাইন শপিং দিবস হিসেবে পরিচিত। এদিন অনেকে কেনাকাটা, ভ্রমণ কিংবা বন্ধু ও স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটানোর মাধ্যমে দিনটি উদযাপন করেন।
সিঙ্গেল দিবসের মূল বার্তা হলো- সম্পর্কে না থাকাকে জীবনের ব্যর্থতা হিসেবে দেখার প্রয়োজন নেই। নিজের প্রতি যত্ন, ব্যক্তিগত লক্ষ্য পূরণ এবং পছন্দের কাজের জন্য সময় দেওয়ার মধ্য দিয়েও জীবনকে উপভোগ করা সম্ভব।
তাই সঙ্গীহীন থাকার কারণে মন খারাপ না করে নিজের জন্য সময় দেওয়ার উপলক্ষ হিসেবেই দিনটিকে উদযাপন করছেন অনেকে।
সদ্য সংবাদ/এসকে