জামালপুরের রাণীগঞ্জ যৌনপল্লিতে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে সাড়ে ৬ কেজি গাঁজাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহৃত একটি ডিজিটাল ওজন মাপার যন্ত্র ও নগদ টাকাও জব্দ করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে জামালপুর পৌরসভার রাণীগঞ্জ যৌনপল্লির ৬ নম্বর বাড়িতে এ অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ইসরাফিল (২০) ও সুফিয়া বেগম (৪০)। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার করা গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই এলাকায় মাদক কেনাবেচার খবর পেয়ে ক্রেতার ছদ্মবেশে অভিযানে অংশ নেন জামালপুর সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আছাদুজ্জামান। রিকশায় করে যৌনপল্লিতে প্রবেশের পর এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর কথা হয়। ওই ব্যক্তি মাদক কিংবা নারী কী প্রয়োজন, তা জানতে চাইলে তিনি গাঁজা কেনার আগ্রহ দেখান। পরে টাকা দিয়ে গাঁজা সংগ্রহের পর পূর্বনির্ধারিত সংকেত দেন তিনি। এরপর ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশের অন্য সদস্যরা ওই ব্যক্তিকে আটক করেন।
পরবর্তী সময়ে যৌনপল্লির একটি বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে নীল পলিথিনে রাখা দুই কেজি এবং বিভিন্ন পোস্টারের কাগজে মোড়ানো ৭৪০টি পুরিয়া থেকে আরও সাড়ে চার কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি একটি ডিজিটাল পাল্লা ও মাদক বিক্রির নগদ ২ হাজার ৫০ টাকা জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ইসরাফিল জামালপুর সদর উপজেলার পাথালিয়া উত্তরপাড়া এলাকার দুদু মিয়ার ছেলে। আর সুফিয়া বেগম মেলান্দহ উপজেলার মালঞ্চ এলাকার লাল মিয়ার মেয়ে। তাঁদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকালে আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুস সাকিব।
ওসি জানান, পুলিশ সুপার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিনের নির্দেশনায় জেলায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে। মাদক কারবারে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
একই বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ইয়াহিয়া আল মামুন বলেন, মাদক নির্মূলে জেলার প্রতিটি থানা, তদন্তকেন্দ্র ও পুলিশ ফাঁড়িকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মাদকবিরোধী অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
সদ্য সংবাদ/এসএস