ভারতের বিহারে চিনির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব নিয়ে বিহারের মন্ত্রী শ্রবণ কুমারের দেওয়া মন্তব্য ঘিরেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
মন্ত্রী শ্রবণ কুমারের দাবি, ডায়াবেটিসের প্রকোপ বাড়ায় মানুষ আগের তুলনায় চিনি কম খাচ্ছেন। ফলে চিনির দাম বাড়লেও সাধারণ মানুষের ওপর এর বড় ধরনের প্রভাব পড়বে না।
গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, বর্তমানে মানুষ এমনিতেই কম চিনি খাচ্ছে। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বেড়েছে, তাই মিষ্টি খাওয়ার প্রবণতাও কমেছে। এ কারণে চিনির দাম বাড়ায় খুব বেশি চিন্তার কারণ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে বিহারে বর্তমানে প্রতি কেজি চিনির দাম ৬৫ রুপির বেশি হয়েছে। এর আগে একই পরিমাণ চিনি প্রায় ৪৮ থেকে ৫০ রুপিতে পাওয়া যেত। ফলে স্বাভাবিকভাবেই মূল্যবৃদ্ধির কারণ ও এর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
চিনির দাম বাড়ার বিষয়ে মন্ত্রী বিজয় কুমার সিনহাও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের দাম বাড়লে তিনি ব্যক্তিগতভাবে খুশি হন। তবে চিনির দাম এতটা বাড়ার পেছনে কারণ কী, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর কাছ থেকে তথ্য নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
তবে শ্রবণ কুমারের বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পাপ্পু যাদব। তাঁর অভিযোগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে মন্ত্রী অদ্ভুত যুক্তি দিচ্ছেন।
পাপ্পু যাদব বলেন, অতীতে গ্যাস ও টমেটোর দাম বাড়ার সময় বিভিন্ন নেতা মূল্যবৃদ্ধির সমালোচনা করেছিলেন। কিন্তু এখন চিনির দাম বাড়ার প্রসঙ্গে ডায়াবেটিসের বিষয়টি সামনে আনা হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, সরকারের এমন বক্তব্যে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা কম।
চিনির মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি মন্ত্রীদের পরস্পরবিরোধী মন্তব্যের কারণে বিহারে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
সদ্য সংবাদ/এসএস