ভারতের পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপূজার প্রিভিউ শো ও ভিআইপি পাস বিক্রির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন সংগীতশিল্পী ও রাজ্যটির সাবেক তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। অভিযোগ, ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করে টিকিট ও কার্ড বিক্রির মাধ্যমে প্রায় ৬০ কোটি রুপি সংগ্রহ করা হলেও সেই অর্থের যথাযথ হিসাব পাওয়া যায়নি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে একই দিন অর্থ পাচার ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হন তিনি।
জানা গেছে, ইডির তলবে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হয়েছিলেন ইন্দ্রনীল সেন। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বের হওয়ার পর কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দারা তাঁকে গ্রেপ্তার করেন। পরে তাঁকে কলকাতা পুলিশের সদর দপ্তর লালবাজারে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) তাঁকে আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট অভিযোগ অনুযায়ী, ‘মাস আর্ট’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দুর্গাপূজার প্রিভিউ শো এবং ডোনার কার্ড বিক্রি করা হয়। এ সময়ে এক লাখের বেশি কার্ড বিক্রি করে প্রায় ৬০ কোটি রুপি সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু সংগৃহীত অর্থ সংশ্লিষ্ট পূজা কমিটিগুলোর ব্যাংক হিসাব কিংবা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগকারীর দাবি।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ২৮ জুন ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা প্রতিষ্ঠানটি গঠন করেন। কলকাতার ২৪টি নির্বাচিত পূজামণ্ডপের প্রিভিউ শোর জন্য চার হাজার রুপি বা তার বেশি মূল্যে টিকিট বিক্রি করা হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি ইউনেস্কোর আনুষ্ঠানিক অংশীদার হিসেবে নিজেদের পরিচয় দিয়ে সংস্থাটির নাম ও লোগো ব্যবহার করেছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় জয়দীপ মুখোপাধ্যায় নামের এক ব্যক্তি কলকাতার বউবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এর ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে কলকাতা পুলিশ। পাশাপাশি অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন (পিএমএলএ) অনুযায়ী অনুসন্ধানে নামে ইডি। তদন্তের অংশ হিসেবে ইন্দ্রনীল সেনের একাধিক বাড়ি ও বাগানবাড়িতে তল্লাশি চালানোর তথ্যও সামনে এসেছে।
গ্রেপ্তার হওয়ার আগে আইনি সুরক্ষা পেতে কলকাতা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন ইন্দ্রনীল সেন। তবে সেখান থেকে তাৎক্ষণিক স্বস্তি পাননি তিনি। আগামী ২ নভেম্বর মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারিত রয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে অর্থ আত্মসাৎ, আর্থিক অনিয়ম এবং ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহারের অভিযোগগুলো এখনো তদন্তাধীন।
সদ্য সংবাদ/এসএস