পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেশবাসী ও বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও শিক্ষাকে অনুসরণ করে সমাজে শান্তি, ন্যায়বিচার, সহনশীলতা ও মানবিকতার চর্চা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
পবিত্র এই দিন উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহানবী (সা.) মানুষের কল্যাণ, সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও শান্তির যে শিক্ষা দিয়ে গেছেন, তা ব্যক্তি থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায় পর্যন্ত সবার জন্য অনুসরণীয়। তার আদর্শ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হতে পারে।
তিনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর আগমন মানবজাতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক অধ্যায়। তাঁর জীবনাচরণে সত্যবাদিতা, ন্যায়পরায়ণতা, ক্ষমাশীলতা, সহমর্মিতা ও দায়িত্বশীলতার যে দৃষ্টান্ত রয়েছে, তা যুগের পর যুগ মানুষের জন্য পথনির্দেশনা হিসেবে কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ধর্ম, বর্ণ, ভাষা কিংবা সামাজিক পরিচয়ের ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে বৈষম্য না করে প্রত্যেকের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার শিক্ষা দিয়েছেন মহানবী (সা.)। বিশেষ করে অসহায়, দরিদ্র, এতিম, নারী ও শিশুদের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ এবং প্রতিবেশীর অধিকার রক্ষার ওপর তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।
বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন সংকটের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, যুদ্ধ, সংঘাত, হিংসা, অসহিষ্ণুতা ও বৈষম্যের কারণে মানুষের স্বাভাবিক জীবন নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। এমন বাস্তবতায় মহানবী (সা.)-এর শান্তি ও মানবিকতার শিক্ষা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে সহনশীলতা, পারস্পরিক সম্মান এবং সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও ন্যায়বিচার, জবাবদিহি ও মানবিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিতে হবে।
তরুণ প্রজন্মের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তরুণদের হাতেই। তাদের মাদক, সহিংসতা ও অপরাধ থেকে দূরে রেখে শিক্ষা, নৈতিকতা, সৃজনশীলতা ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি আরও বলেন, মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা কেবল ধর্মীয় অনুশীলনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের প্রতি দায়িত্ব, ন্যায়বোধ, সহমর্মিতা ও উত্তম আচরণের ক্ষেত্রেও তাঁর জীবন অনুকরণীয়। এসব মূল্যবোধ ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে প্রতিষ্ঠিত হলে শান্তিপূর্ণ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী মহান আল্লাহর কাছে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
দেশের সর্বস্তরের মুসলমান এবং বিশ্বের মুসলিম উম্মাহকে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী।
সদ্য সংবাদ/এসএস