স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো শর্ত নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহীদের এ বিষয়ে বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক শেষে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকারের পাঁচটি আইনে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার জন্য কোনো নির্দিষ্ট শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়নি।
তিনি বলেন, ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলর এবং সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর পদে নির্বাচনে অংশ নিতে শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা বাধ্যতামূলক নয়।
তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে আলাদা কিছু বিধান রয়েছে বলে জানান মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার আইনে প্রজাতন্ত্র, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের লাভজনক সার্বক্ষণিক পদে থাকা ব্যক্তিকে নির্বাচনের ক্ষেত্রে অযোগ্য হিসেবে বিবেচনার বিধান রয়েছে।
এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২১- এর বিধানও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি জানান, ওই নীতিমালার ১১.১৭ (ক) ও (খ) ধারায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের একই সময়ে একাধিক পদ বা চাকরিতে কিংবা আর্থিকভাবে লাভজনক কোনো পদে থাকার বিষয়ে বিধিনিষেধ রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য, আর্থিক লাভজনক পদের মধ্যে সরকার প্রদত্ত বেতন, ভাতা ও সম্মানীর পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, আইন পেশাসহ বিভিন্ন কাজের বিনিময়ে পাওয়া বেতন, ভাতা ও সম্মানীও অন্তর্ভুক্ত।
এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন নেবে বলেও জানান তিনি। তার মতে, নির্বাচনসংক্রান্ত বিধিমালা, স্থানীয় সরকার আইন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট নীতিমালা পর্যালোচনা করেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে ইসি।
এ বিষয়ে কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে সরকারের ওপর দায় চাপানোর সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংসদে সংশ্লিষ্ট আইন বা বিল পাসের সময় সব পক্ষই সংসদে উপস্থিত ছিল।
সদ্য সংবাদ/এসকে