উদারতা কিংবা সহনশীলতার দোহাই দিয়ে কোনো মুসলমান পূজায় অংশ নিলে বা একে সঠিক বলে মেনে নিলে তার ঈমান অক্ষুণ্ন থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক। একই সঙ্গে বাংলাদেশে বসবাসরত অমুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
সম্প্রতি জুমার নামাজের বয়ানে এসব কথা বলেন জাতীয় মসজিদের এই খতিব।
বক্তব্যে ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের বিষয়টি তুলে ধরে মুফতি আব্দুল মালেক বলেন, তাওহীদ বা আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস এবং একমাত্র তাঁরই ইবাদত করা ইসলামের প্রধান ভিত্তি। আল্লাহ তাআলা তাওহীদে বিশ্বাসী ব্যক্তির অন্যান্য গুনাহ ইচ্ছা করলে ক্ষমা করতে পারেন। কিন্তু শিরকের মতো গুরুতর পাপ ক্ষমা করেন না। মানুষকে শিরক থেকে দূরে রেখে তাওহীদের পথে পরিচালিত করার উদ্দেশ্যেই যুগে যুগে নবী-রাসূলদের পাঠানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
দেশে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের অধিকার প্রসঙ্গে খতিব বলেন, অমুসলিমরা তাঁদের নিজ নিজ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী উপাসনা ও উৎসব পালন করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে ইসলামের কোনো আপত্তি নেই। তাঁরা যাতে নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন, সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
তবে ধর্মীয় বিশ্বাসের সীমারেখা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, উদারতা বা নমনীয়তার অজুহাতে কোনো মুসলমান পূজায় অংশ নিলে কিংবা পূজাকে সঠিক বলে স্বীকৃতি দিলে তার ঈমান থাকবে না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অন্য ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসকে নিজের আকিদা হিসেবে গ্রহণ করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
বয়ানে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ক্ষমাশীলতার উদাহরণও তুলে ধরেন মুফতি আব্দুল মালেক। তিনি বলেন, তায়েফে নির্যাতনের শিকার হয়ে রক্তাক্ত হওয়ার পরও রাসূলুল্লাহ (সা.) নির্যাতনকারীদের ধ্বংস কামনা করেননি। বরং তাদের নিরাপত্তার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছিলেন, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কেউ এক আল্লাহর ইবাদতে ফিরে আসতে পারে এবং শিরক থেকে মুক্ত থাকে।
বক্তব্যের শেষাংশে মুসলমানদের নিজস্ব ধর্মীয় বিশ্বাস ও আকিদা অটুট রাখার পাশাপাশি সমাজে শান্তি, শৃঙ্খলা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব।
সদ্য সংবাদ/এআর