আগামী ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে শুরু হতে যাচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। প্রথমবারের মতো ৪৮ দল নিয়ে আয়োজিত এই বিশ্বকাপ ঘিরে বিশ্বজুড়েই রয়েছে বাড়তি আগ্রহ। কিন্তু বাংলাদেশে দর্শকদের জন্য ম্যাচ দেখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে বলে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে ২০২৬ বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব কোনো স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল বা ওটিটি প্ল্যাটফর্মের হাতে আসেনি। এমনকি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)–ও এখনো স্বত্ব কিনতে পারেনি। ফলে বিশ্বকাপ সম্প্রচার নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হয়েছে।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, অনুমোদন ছাড়া বিদেশি চ্যানেলের সম্প্রচার স্থানীয়ভাবে সরাসরি দেখানো যায় না। তাই স্থানীয় কোনো প্রতিষ্ঠান স্বত্ব না কিনলে বাংলাদেশি দর্শকদের জন্য বিশ্বকাপ দেখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়তে পারে।
এবার বাংলাদেশে বিশ্বকাপ সম্প্রচার স্বত্ব পেয়েছে সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্প্রিংবক পিটিই লিমিটেড। স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের কাছ থেকেই স্বত্ব কিনতে হবে বলে জানা গেছে।
বিটিভির সূত্র অনুযায়ী, এবার সম্প্রচার স্বত্বের মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ১৫১ কোটি টাকা। কর ও অন্যান্য খরচ যোগ হলে মোট ব্যয় প্রায় ২০০ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, মোট অর্থের অর্ধেক ১০ মে’র মধ্যে এবং বাকি অংশ ১০ জুনের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে।
এই স্বত্বের আওতায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, সমাপনী অনুষ্ঠানসহ মোট ১০৪টি ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার ও হাইলাইটস দেখানোর সুযোগ থাকবে।
এদিকে উচ্চ ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিটিভিকে ফিফার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছে, যাতে বিনামূল্যে সম্প্রচারের কোনো সুযোগ পাওয়া যায় কি না তা খতিয়ে দেখা যায়। তবে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত ফিফাকে পাঠানো দুইটি ই-মেইলের কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
সব মিলিয়ে সময় যত গড়াচ্ছে, ততই বাড়ছে অনিশ্চয়তা। দ্রুত সিদ্ধান্ত না এলে কোটি কোটি বাংলাদেশি ফুটবলপ্রেমী এবারের বিশ্বকাপের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।