রাজধানীর ফার্মগেট ফুটওভার ব্রিজে মানুষের কাছে আর্থিক সহায়তা চাইছেন রায়হান। জীবিকার তাগিদে একসময় ঢাকার রাস্তায় ফেরি করে পানি বিক্রি করতেন তিনি। এখন সেই রায়হানই স্ত্রীর চিকিৎসার খরচ জোগাতে অসহায় হয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। তার পাশে দাঁড়িয়েছে ১১ বছরের ছেলেও।
রায়হানের স্ত্রীর হৃদ্যন্ত্রে দুটি রিং বসানোর জন্য প্রয়োজন পাঁচ লাখ টাকা। সীমিত আয়ের সংসারে এত টাকা জোগাড় করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। ফলে গত তিন থেকে চার দিন ধরে ফার্মগেট ফুটওভার ব্রিজে দাঁড়িয়ে পথচারীদের কাছে সহযোগিতা চাইছেন তিনি।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে রায়হানের ওপর নির্ভরশীল স্ত্রী ও দুই সন্তান। প্রতিদিনের আয় দিয়ে সংসারের খরচ চালানোই যেখানে কঠিন, সেখানে স্ত্রীর চিকিৎসার বিপুল ব্যয় তার জন্য বড় সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে বাবার পাশে দাঁড়িয়েছে তার ১১ বছরের ছেলে। যে বয়সে পড়াশোনা ও খেলাধুলা নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা, সেই বয়সেই মায়ের চিকিৎসার জন্য বাবার সঙ্গে মানুষের কাছে সাহায্য চাইছে সে। পরিবারের ছোট সদস্যটির বয়স মাত্র তিন বছর। মায়ের অসুস্থতা আর সংসারের অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই দিন কাটছে তাদের।
ফার্মগেটের ব্যস্ত ফুটওভার ব্রিজ দিয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ চলাচল করেন। তাদের ভিড়ের মধ্যেই স্ত্রীকে সুস্থ করে তোলার আশায় সহায়তার অপেক্ষায় থাকছেন রায়হান। তার কাছে এখন সবচেয়ে বড় চাওয়া, প্রয়োজনীয় অর্থের ব্যবস্থা করে স্ত্রীর চিকিৎসা করানো।
একদিকে চিকিৎসার খরচ, অন্যদিকে সন্তানদের ভবিষ্যৎ সব মিলিয়ে কঠিন সময় পার করছেন এই পরিবার। রায়হানের আশা, সামর্থ্যবান মানুষের সহযোগিতা পেলে স্ত্রীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে।
সদ্য সংবাদ/এসএস