শীতকালে শ্বাসকষ্ট, গলা ব্যথা বা হালকা কাশি অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। বেশিরভাগ মানুষ এগুলোকে মৌসুমি অসুখ ভেবে অবহেলা করেন। তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালীন এসব সংক্রমণের কিছু সমস্যা সময়মতো চিকিৎসা না হলে ধীরে ধীরে গুরুতর জটিলতায় রূপ নিতে পারে। ঝুঁকিগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়।
সাধারণ সর্দি-কাশিকে অনেক সময় তেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় না। যদিও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি নিজে থেকেই সেরে যায়, তবে নাক বন্ধ থাকা বা মুখমণ্ডলে ব্যথা সাইনাস সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে। চিকিৎসা না করলে সর্দি-কাশি কানের সংক্রমণের কারণ হতে পারে, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে। শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক উভয়ের মধ্যেই এটি হাঁপানির সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। নাক দিয়ে পানি পড়া দিয়ে শুরু হওয়া অসুখ ধীরে ধীরে কয়েক সপ্তাহের অস্বস্তি ও জটিলতায় রূপ নিতে পারে।
গলা ব্যথাকেও অনেক সময় ঠান্ডা বাতাস বা কণ্ঠস্বরের ওপর চাপের ফল বলে এড়িয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে গলা ব্যথার পেছনে স্ট্রেপ ব্যাকটেরিয়া দায়ী থাকে। স্ট্রেপ থ্রোটের চিকিৎসা না হলে তীব্র জ্বর, জয়েন্টে ব্যথা এবং বিরল হলেও বাতজ্বরের মতো হৃদ্যন্ত্রসংক্রান্ত জটিলতা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী গলা ব্যথা, জ্বর বা গিলতে কষ্ট হলে তা অবহেলা না করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।
ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ফ্লু শুরুতে সাধারণ ঠান্ডা লাগার মতো মনে হলেও এটি দ্রুত গুরুতর আকার নিতে পারে। শরীর ব্যথা, জ্বর ও ক্লান্তির পাশাপাশি ফ্লু নিউমোনিয়া, পানিশূন্যতা কিংবা শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ৬৫ বছরের বেশি বয়সী ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি থাকে।
শীতকালে দীর্ঘদিনের হালকা কাশিও বিপদের ইঙ্গিত হতে পারে। এটি ব্রঙ্কাইটিস বা বুকের সংক্রমণের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম না নেওয়া বা চিকিৎসায় দেরি হলে ফুসফুসে গুরুতর সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। ঠান্ডা বাতাস শ্বাসনালীকে সংবেদনশীল করে তোলে, যা ফুসফুসকে আরও দুর্বল করে দেয়।
শীতকালে মূত্রনালীর সংক্রমণের ঝুঁকিও কম নয়। এ সময় মানুষ সাধারণত কম পানি পান করে, ফলে ইউটিআই হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। প্রস্রাবের সময় হালকা জ্বালাপোড়াকে অনেকেই সহনীয় মনে করেন। কিন্তু অবহেলা করলে সংক্রমণ কিডনিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং জ্বর ও পিঠে ব্যথাসহ জটিলতা তৈরি করতে পারে।
এ ছাড়া শীতের শুষ্ক আবহাওয়ায় ত্বক ফেটে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। এতে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক সহজেই ত্বকের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ছোটখাটো ত্বকের সংক্রমণ দ্রুত মারাত্মক রূপ নিতে পারে।