রাষ্ট্রীয় বার্তায় ইরাকের শিয়া ধর্মীয় নেতা গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ আলী সিস্তানি এবং সাধারণ জনগণের সাহসিকতার প্রশংসা করেন মোজতবা খামেনি। ইরানের বিরুদ্ধে বিদেশি আগ্রাসনের বিরোধিতা এবং তেহরানের প্রতি ইরাকের সমর্থনকে তিনি ‘প্রশংসনীয়’ বলে উল্লেখ করেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরুর দিকের বিমান হামলায় সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর মোজতবা খামেনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে এরপর থেকে তিনি জনসমক্ষে না আসায় তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, ওই হামলায় তিনি আহত হলেও বর্তমানে সুস্থ হয়ে উঠছেন।
ইরানি সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ জানিয়েছে, বাগদাদে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত ও ইরাকের শিয়া রাজনৈতিক দল ‘ইসলামিক সুপ্রিম কাউন্সিল অব ইরাক’-এর মধ্যে এক বৈঠকের পর এই বার্তা হস্তান্তর করা হয়। তবে বার্তাটি কীভাবে পাঠানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তার তৃতীয় লিখিত বক্তব্য।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেন, ইরানের এক ‘শীর্ষ পর্যায়ের’ ব্যক্তির সঙ্গে ওয়াশিংটন আলোচনা চালাচ্ছে, তবে মোজতবা খামেনি আদৌ জীবিত আছেন কি না তা নিশ্চিত নয়।
এর আগে পারস্য নববর্ষ নওরোজ উপলক্ষে মোজতবার একটি বার্তা টেলিভিশনে প্রচার করা হলেও তা অন্য একজন পাঠ করে শোনান। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে তার ছবি প্রকাশ করা হলেও সেগুলোর সাম্প্রতিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব-এর পর রুহুল্লাহ খোমেনি ও আলী খামেনির পর মোজতবা খামেনি ইরানের তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে তার নেতৃত্ব ও শারীরিক অবস্থা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও ধারাবাহিক লিখিত বার্তায় বিজয়ের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হচ্ছে।
বর্তমানে তার টেলিগ্রাম ও এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট সক্রিয় রয়েছে, তবে সেখানে কেবল লিখিত বার্তাই প্রকাশ করা হচ্ছে।