ভেনেজুয়েলায় অভিযানের সাফল্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কলম্বিয়া, কিউবা, মেক্সিকো ও ইরানের মতো দেশগুলোতেও সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা নাকচ করেননি। মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে দম্ভের সুরে তিনি বলেন, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রকে আবারও এমন অভিযান চালাতে হবে এবং তা করা সম্ভব। তাঁর ভাষায়, কেউ যুক্তরাষ্ট্রকে থামাতে পারবে না। তবে এবার তাঁর বক্তব্যে গ্রিনল্যান্ডের নাম অনুপস্থিত ছিল।
ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প জানান, পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় নৌবহর মোতায়েন রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, তেহরানের নেতৃত্ব হয়তো কোনো ধরনের সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী হতে পারে।
অন্যদিকে ইরান সরকার সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক হামলার বিরুদ্ধে কঠোর পরিণতির হুঁশিয়ারি দিয়ে যাচ্ছে। দেশটিতে চলমান সহিংস প্রতিবাদের প্রেক্ষাপটে ধরপাকড় অব্যাহত রয়েছে এবং ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার ঘটনাও সামনে এসেছে।
ইরান সরকার ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে উল্লেখ করে একে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণার উদ্যোগকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে।
ইরানের ওপর সম্ভাব্য মার্কিন হামলা নিয়ে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আন্দ্রেই বেলোসভ ও চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ডং জুনের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। রাশিয়া বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বললেও বিশ্লেষকদের মতে, চীন ও রাশিয়া সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে যেতে আগ্রহী নয়।
ইউরোপীয় কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের বিশ্লেষক এলি গেরানমায়েহ বলেন, চীন ও রাশিয়ার কাছে ইরানের চেয়েও বেশি অগ্রাধিকারমূলক ইস্যু রয়েছে। তাঁর মতে, তারা ইরানের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধে জড়াবে না।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরানের ওপর নতুন করে বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সাম্প্রতিক বিক্ষোভে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর দমন-পীড়নের প্রতিবাদে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ২১ জন উচ্চপদস্থ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সম্পদ জব্দ এবং ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে। এই প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইতালির রাষ্ট্রদূতকে তলব করে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।
একদিকে ট্রাম্পের সামরিক শক্তি প্রদর্শনের হুমকি, অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ—এই দ্বিমুখী সংকটে ইরানের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। বৈশ্বিক শক্তিগুলোর অবস্থান স্পষ্ট হলেও পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ এড়াতে সবাই এখনো কূটনৈতিক পথেই ভরসা রাখছে।