বানানভুল বা বাক্যগঠনের অসম্পূর্ণতা থাকলেও আবেগের কোনো ঘাটতি ছিল না—এমন হাজারো অনুভূতির টুকরো কাগজ জমা পড়েছে “জনমত বাক্সে”। কেউ লিখেছেন ব্যক্তিগত দুঃখ-কষ্টের কথা, কেউ দাবি জানিয়েছেন হয়রানিমুক্ত পাবলিক সার্ভিস, রাষ্ট্রযন্ত্রের সংস্কার, জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার, নারী-পুরুষের সমতা, শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ, উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা এবং দুর্নীতিমুক্ত ও আধিপত্যমুক্ত বাংলাদেশের প্রত্যাশা। আবার কেউ কেউ সরকারের সমালোচনা ও ব্যক্তিগত ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুকে জনমত বাক্সে মানুষের যে মন্তব্যগুলো এসেছে সেটা পোস্টের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।
“দেশের চাবি, আপনার হাতে” শিরোনামে গণভোট ২০২৬ ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সচেতনতামূলক প্রচারণার অংশ হিসেবে পরিচালিত ভোটের গাড়ির কার্যক্রমে সরাসরি মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের উদ্দেশে মতামত জানিয়েছেন মোট ৪০ হাজার ২০৬ জন নাগরিক। এসব মন্তব্যে প্রশংসা, পরামর্শ, সমালোচনা ও নিন্দা—সবই উঠে এসেছে।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগ থেকে এসেছে ১০ হাজার ২১৬টি মন্তব্য, চট্টগ্রাম থেকে ৬ হাজার ৬টি, রাজশাহী থেকে ৫ হাজার ৭৩৮টি, খুলনা থেকে ৪ হাজার ৬৭৮টি, রংপুর থেকে ৩ হাজার ৬০৫টি, বরিশাল থেকে ২ হাজার ১২৪টি, ময়মনসিংহ থেকে ১ হাজার ৭৯৯টি এবং সিলেট থেকে ১ হাজার ৬৫১টি মন্তব্য। ভোটের গাড়ি দেশের ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা সদর ছাড়াও প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রায় ২ হাজার ১৬৯টি স্থানে গিয়ে এই প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনা করে।
জনমত বাক্সে জমা পড়া মন্তব্যগুলোর মধ্যে গাজীপুর থেকে ১০ বছর বয়সী রাফা লিখেছে, সে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে দেশের মাটি ও বাতাসের মাঝে নিরাপদভাবে বেঁচে থাকার পরিবেশ দেখতে চায় এবং সেই লক্ষ্যে নীতি-নির্ধারক তৈরির জন্য সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছে। কুমিল্লা থেকে দেওয়ান সালাহউদ্দিন লিখেছেন, মানুষ যেন নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারে এবং কোনো দাঙ্গা-হাঙ্গামা ছাড়া নিজের পছন্দমতো ভোট দিতে পারে—এমন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। চট্টগ্রাম থেকে গোলাম রাব্বানি লিখেছেন, তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন এবং ভোট দেওয়ার জন্য যেন মালিকপক্ষ কর্মীদের সুযোগ দেয়, সে বিষয়ে বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন।
ঠাকুরগাঁও থেকে একজন দিনমজুর লিখেছেন, বাজারে সিন্ডিকেটের কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে, ফলে গরিব মানুষের পক্ষে গরুর মাংস কেনা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বরিশাল থেকে সাদিক লিখেছেন, শিক্ষকদের মানোন্নয়ন নিয়ে যদি কেউ না ভাবে, তবে সে দেশে আদর্শ রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়। পিরোজপুর থেকে একজন লিখেছেন, বাংলাদেশের সব ধর্মের মানুষের অধিকার ও বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে এবং কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব ছাড়া হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সবাই একসঙ্গে নিরাপদে বসবাস করতে চায়। দিনাজপুর থেকে লিজা, বিপাশা, সুমি, লিনা ও বৃষ্টি লিখেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে স্মরণ রেখে দেশের সুষ্ঠু সংস্কার প্রয়োজন এবং নারী ও শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করতে ধর্ষণ মামলার রায় ১০ দিনের মধ্যে কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন।
এসব সাবলীল ও আবেগাপ্লুত মন্তব্য পড়ে প্রধান উপদেষ্টা উচ্ছ্বসিত হয়েছেন। তিনি বলেন, জনগণের এমন অকৃত্রিম ভালোবাসা ও প্রত্যাশা একটি অমূল্য সম্পদ। সে কারণে কোনো ধরনের কাটাছেঁড়া ছাড়াই সব প্রশংসা, পরামর্শ, মন্তব্য এবং সমালোচনা-নিন্দা সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।