শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আইপিসি জানায়, যুদ্ধবিরতির পর মানবিক ও বাণিজ্যিক খাদ্য সরবরাহ কিছুটা বাড়ায় গাজার খাদ্য পরিস্থিতিতে সাময়িক উন্নতি দেখা গেছে। এর ফলে দুর্ভিক্ষের পর্যায় থেকে অঞ্চলটি আপাতত বেরিয়ে এসেছে। তবে সংস্থাটি স্পষ্ট করে বলেছে, গাজা এখনো ‘সংকটাপন্ন’ অবস্থায় রয়েছে।
প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়, যদি আবার যুদ্ধ শুরু হয় এবং মানবিক ও বাণিজ্যিক সহায়তা প্রবেশ বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে ২০২৬ সালের এপ্রিলের মাঝামাঝির মধ্যেই পুরো গাজা উপত্যকা পুনরায় দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
চার মাস আগে আইপিসি জানিয়েছিল, গাজার প্রায় ৫ লাখ ১৪ হাজার মানুষ—যা মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ—দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। সে সময় ইসরাইল এই মূল্যায়ন প্রত্যাখ্যান করেছিল।
গাজায় দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা আপাতত নেই, এ কথা স্বীকার করে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, 'পরিস্থিতির উন্নতি ভীষণভাবে অনিশ্চিত। এখনো বিপুলসংখ্যক মানুষ ন্যূনতম খাদ্য পাচ্ছে না। প্রয়োজনের তুলনায় সহায়তাও প্রবেশ করছে অনেক কম।;
তবে আগের মতো এবারও আইপিসির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরাইল। দেশটির সামরিক বাহিনীর অধীনস্থ সহায়তা সমন্বয়কারী সংস্থা কোগাট দাবি করেছে, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে প্রতিদিন ৬০০ থেকে ৮০০টি ট্রাক গাজায় প্রবেশ করছে, যার প্রায় ৭০ শতাংশই খাদ্যবাহী।
যদিও, এই দাবি নাকচ করেছে হামাস। সংগঠনটি জানিয়েছে, প্রতিদিন ৬০০ ট্রাক গাজায় ঢুকছে এমন তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা। প্রকৃতপক্ষে, সহায়তার পরিমাণ এর চেয়ে অনেক কম।
আইপিসির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে কোগাট অভিযোগ করেছে, সংস্থাটি গাজার বাস্তব পরিস্থিতি ভুলভাবে তুলে ধরেছে।
ইসরাইলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বলেছে, আইপিসির প্রতিবেদনে যে সহায়তার চিত্র দেখানো হয়েছে, বাস্তবে তার চেয়ে অনেক বেশি খাদ্য ও ত্রাণ গাজায় প্রবেশ করছে। চলতি বছরের জুলাইয়ের পর থেকে গাজায় খাদ্যপণ্যের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।'
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো বারবার অভিযোগ করে আসছে, গাজার মতো ছোট ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় প্রয়োজনের তুলনায় এখনো পর্যাপ্ত সহায়তা ঢুকছে না। ইসরাইল অনেক প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রবেশে বাধা দিচ্ছে।