ইরান যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ে জার্মানিতে বৈঠকে বসেছেন ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও সাত আরব দেশের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা। বৈঠকে ইসরায়েলের সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইয়াল জামিরের সঙ্গে একই টেবিলে ছিলেন সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, জর্ডান ও মিসরের সামরিক কর্মকর্তারা। বৈঠকটি আয়োজন করে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সেন্টকম বৈঠকটির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, জার্মানিতে একটি নির্ধারিত সম্মেলনে আট দেশের সামরিক নেতৃত্ব অংশ নেয়। সেখানে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়ানোর বিভিন্ন সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত সপ্তাহে জার্মানির একটি নিরিবিলি স্থানে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকমের কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের উদ্যোগে আয়োজিত বৈঠকে ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি গুরুত্ব পায়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে ইসরায়েলি সেনাপ্রধান বিভিন্ন ফ্রন্টে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের বিষয়ে অন্য সামরিক কর্মকর্তাদের অবহিত করেন। একই সঙ্গে ব্র্যাড কুপার হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল বাড়ানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও এর আগে সামরিক কর্মকর্তাদের পর্যায়ে বিভিন্ন বৈঠক হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বৈঠকটি ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের পর দুই পক্ষের সামরিক কর্মকর্তাদের একসঙ্গে আলোচনার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে।
এদিকে সেন্টকমের সহায়তায় সৌদি আরব ও ইসরায়েলের মধ্যে হুথিদের মোকাবিলায় গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে অ্যাক্সিওস। তবে ওই সূত্রের দাবি অনুযায়ী, ইসরায়েল সৌদির পক্ষে সরাসরি কোনো আক্রমণাত্মক সামরিক অভিযান চালাবে- এমন সম্ভাবনা কম।
সেন্টকমের ভাষ্য অনুযায়ী, জার্মানির বৈঠকে অংশ নেওয়া দেশগুলোর সামরিক নেতৃত্বের আলোচনার মূল বিষয় ছিল মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের সুযোগ। বৈঠকের অন্যান্য বিস্তারিত বিষয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
সদ্য সংবাদ/এসকে