শুনানিতে বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য তিনি আদালতে দুই দিনের সময় চেয়ে আবেদন করেন। বাদীর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল। এদিন হাদির ভাই ওমর হাদিও আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, 'অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য আমরা দুই দিন সময় নিয়েছি। ১৫ জানুয়ারি আপত্তি বিষয়ে আদালত সিদ্ধান্ত জানাবেন।'
গতবছর ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগের জন্য যাওয়ার সময় চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে পেছন থেকে আসা মোটরসাইকেল থেকে দুষ্কৃতিকারীরা গুলি চালায়। গুরুতর আহত হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং অস্ত্রোপচার করা হয়। রাতেই তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয় তাকে। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
হাদির গুলিবিদ্ধের পর ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটিতে হত্যার ৩০২ ধারা যুক্ত করা হয়। তদন্তের দায়িত্ব পুলিশ থানা থেকে ডিবি পুলিশের হাতে দেওয়া হয়।
ডিবি পুলিশ ৬ জানুয়ারি মামলায় ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেয়। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ (৩৭), তার বাবা মো. হুমায়ুন কবির (৭০), মা হাসি বেগম (৬০), স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া (২৪), শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ শিপু (২৭), বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা (২১) সহ আরও অনেকে। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন পলাতক।
ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে হাদিকে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করা এবং ভোটারদের মধ্যে ভয় সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে আসামি ও সহযোগীরা হাদির নির্বাচনি প্রচারে অনুপ্রবেশ করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।