ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে ফেসবুকে আবেগঘন একটি পোস্ট দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র, আধিপত্যবাদবিরোধী লড়াইয়ের অকুতোভয় সৈনিক এবং জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদি মহান আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে শাহাদাত বরণ করেছেন। তিনি ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন পাঠ করে গভীর শোক প্রকাশ করেন।
ডা. শফিকুর রহমান লেখেন, ইনসাফ ও ন্যায়ের পথে দৃঢ়তা, ত্যাগ ও সাহসিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ছিলেন ওসমান হাদি। তাঁর শাহাদাত পরিবার-পরিজন, সহকর্মী এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।
তিনি আরও বলেন, মহান আল্লাহর দরবারে তিনি দোয়া করছেন যেন ওসমান হাদিকে জান্নাতুল ফিরদাউসের সর্বোচ্চ মাকাম দান করা হয় এবং তাঁকে শাহাদাতের সর্বোচ্চ মর্যাদায় ভূষিত করা হয়। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও দেশবাসীকে ধৈর্য ধারণের তাওফিক দানের প্রার্থনাও করেন তিনি।
এর আগে জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে প্রচারণার সময় গত ২০ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগরে গুলিবিদ্ধ হন শরিফ ওসমান হাদি। মাথা ভেদ করে যাওয়া গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন। তাঁকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। তিন দিন পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে কয়েক দিন চিকিৎসা চললেও তাঁর অবস্থার উন্নতি হয়নি এবং বৃহস্পতিবার রাতে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, হাদির ওপর গুলিবর্ষণকারী হিসেবে ফয়সাল করিম মাসুদকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁর সহযোগী হিসেবে মোটরসাইকেল চালক আলমগীর শেখের নামও উঠে এসেছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, তারা দুজন অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন।
এই হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত পুলিশ ও র্যাব ১৪ জনকে আটক ও গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা মোসা. হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভিন সামিয়া ও শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু। অন্যদের মধ্যে আছেন মো. নুরুজ্জামান নোমানী ওরফে উজ্জ্বল, মো. কবির, আব্দুল হান্নান, মো. হিরন, মো. রাজ্জাক, ফয়সালের বান্ধবী মারিয়া আক্তার এবং হালুয়াঘাট সীমান্তের মানব পাচারকারী হিসেবে পরিচিত সিমিরন দিও ও সঞ্জয় চিসিম।
উল্লেখ্য, গুলিবিদ্ধ হওয়ার প্রায় এক মাস আগে ওসমান হাদি প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। গত নভেম্বরে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, দেশি ও বিদেশি অন্তত ৩০টি নম্বর থেকে তাঁকে ফোন ও বার্তার মাধ্যমে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগের ‘খুনি’ সমর্থকেরা তাঁকে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রেখেছে। তবু জীবননাশের আশঙ্কা সত্ত্বেও তিনি ‘ইনসাফের লড়াই’ থেকে সরে দাঁড়াবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন।