শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকার যখন কূটনৈতিকভাবে উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে নয়াদিল্লিতে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে তাঁর নির্ধারিত বৈঠক বাতিল হওয়ার খবর এসেছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিল্লিতে বৈঠকটি হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা বাতিল করা হয় বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য উইকের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
বৈঠকে অংশ নিতে আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ইতোমধ্যে দিল্লিতে পৌঁছেছিলেন। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই তাঁদের বৈঠক বাতিলের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
ঢাকার একটি সংবাদপত্রকে আওয়ামী লীগের এক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, বৈঠকের মাত্র এক দিন আগে এটি বাতিলের সিদ্ধান্তের কথা তাঁদের জানানো হয়। তবে বৈঠক স্থগিত বা বাতিলের পেছনে কী কারণ রয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কোনো ব্যাখ্যা দেননি।
নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনা যে বাসভবনে অবস্থান করছেন, সেখানেই বৈঠকটি হওয়ার কথা ছিল। দলটির রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কর্মকৌশল নিয়ে সেখানে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। একই সঙ্গে আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফেরার সম্ভাব্য বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল।
সম্প্রতি দিল্লির সাউথ এশিয়ার ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি অংশ নেন। ওই অনুষ্ঠানে তাঁর অংশগ্রহণের পর বাংলাদেশ প্রতিবাদ জানানোর কয়েক দিনের মধ্যেই বৈঠক বাতিলের খবর সামনে এল।
পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ওই অনুষ্ঠান থেকে নিজেদের দূরত্বের কথা জানানো হয়। দলটি দাবি করে, অনুষ্ঠানটি তারা আয়োজন বা স্পনসর করেনি। ভারত সরকারও জানিয়েছিল, এটি একটি বেসরকারি সংগঠনের আয়োজিত অনুষ্ঠান এবং এর সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।
আওয়ামী লীগের বৈঠক বাতিলের খবর এমন সময়ে প্রকাশ্যে এলো, যখন শেখ হাসিনাকে ঘিরে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের আলোচনাও চলছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীকে বলেছেন, শেখ হাসিনার উচিত ভারতের মাটিতে থেকে বাংলাদেশে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা না করা।
মাহদী আমিন ভারতীয় হাইকমিশনারকে আরও বলেন, ভারতের ভূখণ্ডে অবস্থানরত এসব ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের ওপর নয়াদিল্লির ঘনিষ্ঠ নজর রাখা প্রয়োজন, যাতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার কোনো উদ্যোগ তারা নিতে না পারেন।
এদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়েও ঢাকা ও নয়াদিল্লির মধ্যে নতুন করে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নভেম্বরের সুবিধাজনক কোনো সময়ে তারেক রহমানের দিল্লি সফর আয়োজনের জন্য দুই দেশের কর্মকর্তারা কাজ করছেন।
দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী কয়েকজন বাংলাদেশি কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
সদ্য সংবাদ/ এআর