মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি যুদ্ধ এড়াতে ওমানে আলোচনায় বসেছেন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই অঞ্চলের আরেক দেশ ইসরায়েল নিচ্ছে কঠোর অবস্থান। বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক করেন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান আলোচনা কোনোভাবে ব্যর্থ হলে ইরানে হামলা চালাবে ইসরায়েল।
গত মাসে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে ঘিরে উত্তাল হয়ে ওঠে ইরান। ওই বিক্ষোভ চলাকালে আন্দোলনকারীদের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুধু সমর্থনই নয়, তিনি ইরানে হামলার কথাও উল্লেখ করেন। সেই লক্ষ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় বিমানবাহী রণতরীসহ একটি নৌবহর পাঠায় যুক্তরাষ্ট্র।
তবে সামরিক প্রস্তুতির পাশাপাশি কূটনৈতিক পথেও এগোচ্ছে ওয়াশিংটন। এর অংশ হিসেবে ওমানের রাজধানী মাস্কাটে ইরানি ও মার্কিন কর্মকর্তারা আলোচনায় বসেছেন। এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের অন্যতম মিত্র দেশ ইসরায়েল।
তবে আলোচনার পাশাপাশি বিকল্প পরিকল্পনাও তৈরি করে রেখেছে তেল আবিব। জেরুজালেম পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের চিফ অব স্টাফ ইয়াল জামির মার্কিন কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, ইরান যদি যুদ্ধের পথ বেছে নেয়, তাহলে আকস্মিক হামলা চালাতে প্রস্তুত রয়েছে ইসরায়েল।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো ছাড় দেয়, তাহলে সেটিকে ইসরায়েল ‘বিপদসীমা’ অতিক্রম হিসেবে দেখবে। সে ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেবে না দেশটি। এ কারণেই ইরানের সঙ্গে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র এই দুটি বিষয়কে তাদের এজেন্ডায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।