সোমবার (৩০ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় আরাঘচি বলেন, ইরানের বিজ্ঞানী ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো আগ্রাসীদের হতাশার বহিঃপ্রকাশ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বোমা হামলা চালিয়ে কখনোই জ্ঞান ও বিজ্ঞানের অগ্রগতি থামানো সম্ভব নয়।
চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের এক মাস পূর্তি উপলক্ষে তিনি দাবি করেন, একটি সুপরিকল্পিত কৌশলের অংশ হিসেবেই ইরানের বুদ্ধিবৃত্তিক অবকাঠামোর ওপর এসব আঘাত হানা হচ্ছে।
ওয়াশিংটন ও ইসরায়েলি সরকারকে উদ্দেশ করে আরাঘচি সতর্ক করে বলেন, 'এ ধরনের হামলা ইরানের শিক্ষার্থীদের জ্ঞানার্জনের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দেবে। এসব পদক্ষেপ তেহরানের মনোবল ভাঙতে পারবে না; বরং প্রতিরোধ আরও জোরদার হবে।'
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনি এবং কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কমান্ডার নিহত হওয়ার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে বড় পরিসরের সামরিক অভিযান শুরু করে।
গত এক মাসে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতালের মতো অসামরিক স্থাপনাতেও বিমান হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে ব্যাপক অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বহু সাধারণ মানুষের হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। ফলে দেশটির শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীও পাল্টা আঘাত হানছে। ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি ও অধিকৃত অঞ্চলে শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান। ইরান সতর্ক করে বলেছে, বেসামরিক স্থাপনায় প্রতিটি হামলার জন্য আক্রমণকারীদের ‘চড়া মূল্য’ দিতে হবে।
এদিকে, সংঘাত ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতো স্পর্শকাতর স্থানে হামলার ঘটনা মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরান সরকার ইতোমধ্যে তাদের শিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করেছে।
সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি