বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ তার জামিনের আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশনের পক্ষে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফ রেজা।
এর আগে হাতিরঝিল থানায় দায়ের করা সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় বুধবার রাতে ছরওয়ারে আলমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হাতিরঝিল থানার এসআই খন্দকার সালেহ আবু নাইম তাকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
শুনানিকালে বাদীপক্ষে জামায়াতপন্থি আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক জামিনের বিরোধিতা করেন। অপরদিকে আসামিপক্ষে আইনজীবী মো. আলমগীর জামিন চেয়ে যুক্তি উপস্থাপন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আদেশ অপেক্ষমাণ রাখেন এবং পরে জামিন মঞ্জুর করেন।
এ মামলায় বাদী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সিরাজুল ইসলাম।
উল্লেখ্য, গত শনিবার জামায়াত আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ‘নারীবিদ্বেষী’ পোস্ট প্রকাশিত হলে তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। পোস্টটিতে নারীর নেতৃত্ব, আধুনিকতা ও নারীর ভূমিকা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করা হয়।
এ ঘটনার পর জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, দলের আমিরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে ওই পোস্ট দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার বিকেলে জামায়াতের একটি প্রতিনিধি দল বঙ্গভবনে গিয়ে অভিযোগ জানায়।
এরপর মধ্যরাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের অভিযানে মতিঝিল এলাকা থেকে ছরওয়ারে আলমকে আটক করা হয়। তাকে আটকের আগেই অ্যাকাউন্ট হ্যাকড হওয়ার অভিযোগে হাতিরঝিল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল।
তবে বুধবার রাত পর্যন্ত পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে তার গ্রেপ্তারের তথ্য জানায়নি। পরে রাত ১১টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান শফিকুল ইসলাম জানান, বঙ্গভবনের সহকারী প্রোগ্রামার ছরওয়ারে আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে গোয়েন্দা শাখার একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ছরওয়ারে আলমের বিরুদ্ধে জামায়াত আমিরের এক্স পোস্টের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাদের দাবি, রাজনৈতিক চাপের মুখে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।