সোমবার (১২ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল অভিযোগ গঠন করে এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষে আজকের দিনটি আদেশের জন্য নির্ধারণ করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। এর আগে ৬ জানুয়ারি আসামিপক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী সালমান ও আনিসুলের অব্যাহতির আবেদন করেন। তিনি দাবি করেন, তার মক্কেলরা নির্দোষ এবং তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।
শুনানিতে তিনি আরও বলেন, 'প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে উপস্থাপিত ফোনালাপটি সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের নয়। এ কারণে বিদেশি বিশেষজ্ঞ দিয়ে ভয়েস রেকর্ড যাচাইয়ের আবেদন জানানো হলেও ট্রাইব্যুনাল তা নাকচ করে দেন।'
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আনা পাঁচটি অভিযোগের মধ্যে রয়েছে: কারফিউ জারির মাধ্যমে মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি, ষড়যন্ত্র এবং মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় আওয়ামী লীগের সশস্ত্র হামলার ঘটনায় সাধারণ জনগণের প্রাণহানি। অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন দমনে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরাসরি যুক্ত ছিলেন সালমান ও আনিসুল।
অভিযোগ অনুযায়ী, ১৯ জুলাই ২০২৪ সালের একটি ফোনালাপে আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে তারা ‘ওদের শেষ করে দেওয়ার’ নির্দেশ দেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে, গত ৪ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ অভিযোগ আমলে নেন এবং সেদিনই ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়। বিচার শুরুর আদেশের মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত এই মামলায় আনুষ্ঠানিক বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলো।