ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের ঢাকা সফরকে আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক বা রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে না দেখার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। একই সঙ্গে এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার টানাপড়েন কমবে কি না, সে প্রশ্নের উত্তর ভবিষ্যতে খোঁজার পরামর্শও দেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এসব মন্তব্য করেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) ঢাকায় আসেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস. জয়শঙ্কর। এ সময় পাকিস্তানের জাতীয় সংসদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিকসহ বিভিন্ন দেশের মন্ত্রীরাও ঢাকায় উপস্থিত ছিলেন।
মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও এসেছেন এবং তাঁর সফর সংক্ষিপ্ত হলেও পুরো অনুষ্ঠানটিতে তিনি উপস্থিত ছিলেন। এরপর তিনি চলে গেছেন। এটিকে একটি ভালো সৌজন্য হিসেবেই দেখা উচিত, এর বেশি কোনো অর্থ খোঁজার প্রয়োজন নেই। এই সফরকে আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক বা রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখাই ভালো।
জয়শঙ্করের সঙ্গে কোনো একান্ত বৈঠক হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাঁদের মধ্যে ওয়ান টু ওয়ান কোনো আলোচনা হয়নি। সে ধরনের সুযোগও তৈরি হয়নি। অন্যান্য বিদেশি অতিথিরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পাকিস্তানের স্পিকারও ছিলেন, তাঁর সঙ্গেও জয়শঙ্কর হাত মিলিয়েছেন। এটি কেবল সৌজন্যমূলক আচরণ, যা সবাই মেনে চলে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, জয়শঙ্করের সঙ্গে যে সামান্য কথাবার্তা হয়েছে, সেখানে কোনো রাজনৈতিক আলোচনা ছিল না। সবার উপস্থিতিতে কেবল সৌজন্য বিনিময়ের মধ্যেই তা সীমাবদ্ধ ছিল, ফলে দ্বিপাক্ষিক কোনো ইস্যু নিয়ে আলোচনার সুযোগ ছিল না।