শুক্রবার (২১ নভেম্বর) বিকেলে লংগদু উপজেলায় এ সভায় সংগঠনের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি, সমসাময়িক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ এবং জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় তরুণদের ভূমিকা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন পিসিসিপি রাঙ্গামাটি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন।
প্রধান অতিথি আলমগীর হোসেন বলেন, 'বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পাহাড়ে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা রক্ষায় নিবেদিতভাবে কাজ করছে। কিন্তু একটি বিশেষ মহল পরিকল্পিতভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে অপতথ্য ছড়িয়ে দেশের সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে—যা দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছু নয়।'
তিনি আরও বলেন, 'তিন পার্বত্য জেলা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানামুখী ষড়যন্ত্র চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর স্ট্যাটাস, কাটছাঁট করা ভিডিও এবং মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করার চেষ্টা হচ্ছে। এগুলো রোধে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং তথ্যভিত্তিক জবাব দিতে হবে।'
সভায় উপস্থিত ইউনিয়ন পর্যায়ের সভাপতি সম্পাদকরা তাদের নিজ নিজ এলাকার পরিস্থিতি তুলে ধরেন।
বক্তারা বলেন, 'পাহাড়ে সেনাবাহিনীর ভূমিকা দেশপ্রেম, মানবিকতা ও পেশাদারিত্বের উজ্জ্বল উদাহরণ। অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি করতে সংগঠনের প্রতিটি কর্মীকে মাঠে সক্রিয় থাকতে হবে। তরুণ সমাজকে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য থেকে দূরে রেখে প্রকৃত ইতিহাস ও বাস্তবতা তুলে ধরতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় বাড়াতে হবে।'
সভায় একাধিক নেতা বলেন 'দুর্গম পাহাড়ি জনপদে দুর্ঘটনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সংঘাত বা মানবিক বিপর্যয় যেখানেই মানুষের জীবন হুমকিতে পড়ে, সেখানেই সবার আগে এগিয়ে আসে সেনাবাহিনী। এটি তাদের পেশাদারিত্বের পাশাপাশি দেশপ্রেমের বাস্তব প্রতিচ্ছবি।'
সভায় আরও বলা হয় 'পাহাড়ে শিক্ষা বিস্তার, চিকিৎসা সহায়তা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি উন্নয়ন এবং সমাজসেবা—সবখানেই সেনাবাহিনীর অবদান স্পষ্ট। অথচ একটি গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এর কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।'
সভা শেষে জেলা ও উপজেলার নেতারা ঐক্যবদ্ধভাবে ঘোষণা দেন “সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে প্রত্যেকে নিজ নিজ এলাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রম বাড়াতে হবে। অপপ্রচার, উসকানি ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে তরুণ জনসমাজকে সচেতন করতে হবে। দেশ, পাহাড় ও মানুষের স্বার্থ রক্ষায় পিসিসিপি দৃঢ় অবস্থানে থাকবে।”
সভায় লংগদু উপজেলার সাত ইউনিয়নের সভাপতি ও সম্পাদকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।