রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশন সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং র্যাবের মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে।
রিট আবেদনে বলা হয়, লুণ্ঠিত সব আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার এবং নির্বাচনের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিত রাখার নির্দেশনা প্রয়োজন। বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন থানা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কার্যালয় থেকে প্রায় ৫ হাজার ৭৫০টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৬ লাখ ৫১ হাজার ৬০৯ রাউন্ড গোলাবারুদ লুট হয়।
রিটে বলা হয়, সরকার লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে পুরস্কার ঘোষণা করলেও এখনো এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে থাকায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার ও প্রার্থীদের জীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
আবেদনে ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলা হয়, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার না হলে নির্বাচন সহিংস ও রক্তক্ষয়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ ছাড়া, নির্বাচন কমিশনার অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহর বক্তব্য উদ্ধৃত করে রিটে বলা হয়, নির্বাচনের আগে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা অত্যন্ত জরুরি। যদিও সরকার কিছু সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীর জন্য গানম্যানের ব্যবস্থা করেছে, তবে সাধারণ ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
এই পরিস্থিতিতে লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার না করে নির্বাচন আয়োজন করা হলে তা সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভোটার ও প্রার্থীদের মৌলিক অধিকার, অর্থাৎ ‘জীবনের অধিকার’-এর চরম লঙ্ঘন হবে বলে রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।