জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, ওসমান হাদি চেয়েছিলেন দেশ যেন আধিপত্যবাদী শক্তির প্রভাবমুক্ত থাকে। তাঁর ভাষায়, যারা দিল্লির আধিপত্যবাদীদের খুশি করতে চায়, তারাই এই হত্যার মদদদাতা। তিনি বলেন, বিজাতীয় সংস্কৃতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েই ওসমান হাদি ‘ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার’ গড়ে তুলেছিলেন। যারা জাতিসত্তা, ইসলামি মূল্যবোধ ও সুস্থ স্বদেশীয় জাতীয় সংস্কৃতির বিরোধিতা করে এবং বিজাতীয় সংস্কৃতি চাপিয়ে দিতে চায়, তারাই হাদির খুনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
রোববার রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি স্মরণে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে এসব কথা বলেন গোলাম পরওয়ার।
ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে ২৪ ঘণ্টার সময়সীমা ঘোষণার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করা হচ্ছে—প্রকৃত খুনিদের গ্রেপ্তারে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা জাতির সামনে পরিষ্কার করতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তা না হলে মানুষ বিশ্বাস করবে যে প্রশাসনের ভেতরে এখনো ফ্যাসিবাদের দোসররা লুকিয়ে আছে, যারা খুনিদের রক্ষা করছে। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতন নিয়ে দায়িত্বহীনতা জনগণ মেনে নেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, সরকারের কোনো ব্যর্থতা থাকলে কিংবা কোনো গোয়েন্দা কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তা জাতির সামনে স্বীকার করতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি ও শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
প্রধান উপদেষ্টার উদ্দেশে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ওসমান হাদির জানাজায় দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে হবে। তিনি বলেন, হাদির কফিনের সামনে যে ওয়াদার কথা বলা হয়েছে, তা বাস্তবায়নের জন্য উপদেষ্টাদের নির্দেশ দিতে হবে এবং গোয়েন্দা ব্যর্থতার জন্য দায়ীদের নাম প্রকাশ অথবা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তাহলেই দেওয়া প্রতিশ্রুতি সত্য প্রমাণিত হবে।
দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারের নীরবতার দেয়াল ভেঙে জাতির গণ-আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে একাত্ম হওয়া জরুরি। তিনি বলেন, শহীদ ওসমান বিন হাদির পরিবারের পাশে শুধু জামায়াতে ইসলামি নয়, সারা দেশের মানুষ রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
দোয়া মাহফিলে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম, এটিএম মা’ছুম এবং ওসমান হাদির বড় ভাই ওমর ফারুক।