পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় ঔষধের সংকট দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের ফার্মেসিতে প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী সব ধরনের ঔষধ না পাওয়ায় চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের একটি বড় অংশকে বাইরে থেকে ঔষধ কিনতে হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ।
হাসপাতালে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারলেও প্রেসক্রিপশনে লেখা প্রয়োজনীয় অনেক ঔষধ মজুত না থাকায় রোগীদের স্থানীয় ফার্মেসির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। জ্বর, সর্দি-কাশি, ডায়রিয়া, গ্যাস্ট্রিক, উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু ঔষধ নিয়মিত সরবরাহ না থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন রোগীরা।
বহিঃবিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী জানান, সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে ঔষধ পাওয়ার আশায় তারা এখানে আসেন। কিন্তু ফার্মেসিতে গিয়ে অনেক সময় প্রয়োজনীয় ঔষধ না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে কিনতে হয়। এতে চিকিৎসার খরচ বেড়ে যাওয়ায় অসচ্ছল রোগীদের বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ সামলাতে হচ্ছে।
এক রোগী বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে বিনামূল্যে ঔষধ না পেলে দরিদ্র মানুষের জন্য চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। প্রয়োজনীয় ঔষধ নিয়মিত সরবরাহের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, উপজেলার বিপুলসংখ্যক মানুষ চিকিৎসার জন্য কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি ঔষধের ঘাটতি থাকায় প্রত্যাশিত সেবা থেকে অনেকেই বঞ্চিত হচ্ছেন।
হাসপাতালের স্টোরকিপার মো. রেজাউল করিম জানান, ১২ আগস্টের আগে হাসপাতালে ঔষধের কোনো সরবরাহ ছিল না। ১৬ আগস্ট থেকে কিছু ঔষধ সরবরাহ শুরু হয়েছে। তবে চাহিদার তুলনায় সব ধরনের ঔষধ পাওয়া যায়নি। প্যারাসিটামল সিরাপও সরবরাহ করা হয়নি। একইভাবে প্রয়োজনীয় সব ইনজেকশনও পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, হাসপাতালের বহিঃবিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। বিপুলসংখ্যক রোগীর চাপ থাকায় সীমিত মজুত দিয়ে সেবা চালিয়ে যেতেও অনেক সময় সমস্যায় পড়তে হয়।
হাসপাতালের নার্সিং সুপারভাইজার কল্পনা রানী বলেন, ৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও অনেক সময় রোগীর সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যায়। অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে পর্যাপ্ত ঔষধ থাকলেও তা চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা করা কঠিন হয়ে পড়ে।
কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তেন মং বলেন, হাসপাতালে কিছু ঔষধের সংকট রয়েছে। সরকারি ইডিসিএল (EDCL) থেকে হাসপাতালের জন্য ঔষধ সংগ্রহ করা হয় এবং এর বাইরে থেকে ঔষধ আনার সুযোগ নেই।
তিনি জানান, হাসপাতাল থেকে ৮০টি আইটেমের ঔষধের চাহিদা পাঠানো হলেও ৬১টি আইটেম পাওয়া গেছে, যার বেশিরভাগই এসেছে আংশিকভাবে। প্রতিদিন হাসপাতালে শতাধিক রোগী ভর্তি থাকেন এবং বহিঃবিভাগে কয়েকশ রোগীকে চিকিৎসা দিতে হয়। ফলে সরবরাহ পাওয়া ঔষধ দিয়ে চাহিদা মেটানো কঠিন হয়ে পড়ে।
তবে শিগগিরই নতুন করে ঔষধ সরবরাহ পাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন এই কর্মকর্তা। প্রয়োজনীয় ঔষধের সরবরাহ স্বাভাবিক হলে রোগীদের ভোগান্তিও কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সদ্য সংবাদ/এসএস