রংপুরের গঙ্গাচড়ায় বিড়ির বাজার নিয়ে বিরোধের জেরে মর্নেয়া ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মীর কাসেম মিঠুসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। বুধবার রাতে উপজেলার কামদেব শেখপাড়া এলাকায় দলীয় কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর ছবুর ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেন।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, আফিজ, আকিব ও নিবিড় বিড়ির মালিক এবং মর্নেয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মীর কাসেম মিঠুর সঙ্গে ফ্রেশ বিড়ির মালিক রমজান আলী জিকুর দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়িক বিরোধ চলছিল। এ বিরোধ মীমাংসার জন্য বিএনপি কার্যালয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বৈঠক বসে। একপর্যায়ে সেখানে উত্তেজনা দেখা দিলে পরিস্থিতি সংঘর্ষে গড়ায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
তবে হামলার কারণ নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন মীর কাসেম মিঠু। তাঁর দাবি, এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে মাদক কারবারিদের তৎপরতা বন্ধ করার কারণেই তাঁকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রমজান আলী জিকুর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনায় মীর কাসেম মিঠু ছাড়াও ছোট আসাদ ও তৌফিক হোসেন বাবলু মারধরের শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে। হামলার সময় কার্যালয়ের চেয়ার, ব্যানার ও ছবি ভাঙচুর করা হয়।
ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিএনপি কার্যালয় প্রাঙ্গণে সংবাদ সম্মেলন করেন স্থানীয় নেতারা। এতে সভাপতিত্ব করেন গঙ্গাচড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী, মর্নেয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মাবুদ এবং জাতীয়তাবাদী প্রচার দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি রুহুল আমীনসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।
সংবাদ সম্মেলনে চাঁদ সরকার হামলা ও কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনার নিন্দা জানান। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। সেখানে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি আব্দুর ছবুর জানান, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
সদ্য সংবাদ/এসএস